বিক্ষোভের জেরে হংকং-চীন চুক্তির মৃত্যু


কাঁপছে হংকং

হংকং থেকে চীনের কাছে অপরাধী প্রত্যর্পণের জন্য যে বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল তার 'মৃত্যু' হয়েছে বলে জানিয়েছেন হংকংয়ের শাসক ক্যারি লাম।

তিনি বলেছেন, উত্তাল গণবিক্ষোভের জেরে বিলটির আপাতত মৃত্যু হয়েছে। তবে তা পুরোপুরি বাতিল হয়েছে কিনা তা এবারও নিশ্চিত করেননি তিনি।

এদিকে, রবিবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতারা। তারা বলছেন, বর্তমান শাসকের ওপর জনগণের আর আস্থা নেই।

অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে রোববার দিনভর বিক্ষোভ ও পুলিশি লাঠিচার্জের পর সোমবার হংকংয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। পুলিশি ব্যারিকেড ছিল রাস্তার মোড়ে মোড়ে। রাস্তাঘাটে যানবাহনের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। যারা নিজ প্রয়োজনে বেরিয়েছেন, তাদের মনেও ছিল শঙ্কা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারের ওপর মানুষের আস্থা কমেছে বলেই বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে। প্রশাসনের বিষয়টি আরও সুষ্ঠুভাবে সামলানো উচিত ছিল। তারা মনে করেন, আসলে যৌক্তিক কারণেই আন্দোলন হয়েছে। সরকারের উচিত ছিল শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি দেখভাল করা।

এদিকে প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নেই বলেই বারেবারে বিক্ষোভ হয়েছে বলে মত হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী রাজনীতিবিদদের। রোববারের বিক্ষোভে বেশ কয়েকজনকে আটক করা এবং পুলিশি লাঠিচার্জের নিন্দাও জানান তারা। হংকং-এর রাজনীতিবিদ ক্লাউডিয়া মো বলেন,

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইচ্ছে করে হামলা চালিয়েছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। ক্যারি লাম সরকার এখন কঠিন সময় পার করছে। তার প্রশাসন আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছে। এছাড়া জনগণের ভরসাও কমেছে। তাদের উচিত হবে জনগণ যেভাবে বলছে সেভাবে দাবি মেনে নেয়া।

এদিকে, মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে দাবি মানার কথা না বললেও বিলটির 'মৃত্যু' ঘটেছে বলে জানিয়েছেন হংকংয়ের শাসক ক্যারি লাম।   বিলটি নিয়ে এগোনোর পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই।

হংকং-এর প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বলেন, বিলটির কোনো সম্ভাবনা নেই। জনগণের বিক্ষোভের জেরে আজ তা মৃত। আমরাও আর এ নিয়ে এগোতে চাই না। আসুন, আমাদের সুযোগ দিন। একটি স্থিতিশীল পরিস্থিতি রক্ষা করতে চাই আমরা। এমন বিক্ষোভ-আন্দোলন আর কাম্য নয়।

গেলো জুনে চীন ও তাইওয়ানে আসামি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের পক্ষে সমর্থন জানান হংকং-এর চীনপন্থী শাসক। এরপরই সড়ক অবরোধ করে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন অঞ্চলটির সাধারণ মানুষ। তাদের আশঙ্কা বিলটি পাস হলে, হংকংয়ের রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপ অনেকাংশে বাড়বে।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি

Loading...