ওটা ৫ রান হবে, ৬ রান নয়: সায়মন টফেল


সায়মন টফেল

ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের শেষ ওভারে ইংল্যান্ডকে দেয়া ওভারথ্রোর ৬ রান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর একজন সাবেক আম্পায়ার বলছেন যে মাঠের আম্পায়াররা বিচারে ভুল করেছেন।

“এটা নিশ্চিত একটি ভুল, এটা বিচারের ভুল” – এমনটা মনে করছেন সায়মন টফেল।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই আম্পায়ার – যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের এলিট প্যানেলের অংশ ছিলেন – টানা পাঁচবার আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

দ্যা এজ এবং সিডনি মর্নিং হেরাল্ড সংবাদপত্রকে তিনি বলেন, ইংল্যান্ডকে ৫ রান দেয়া উচিৎ ছিল, ৬ রান নয়। মূলত ভুল হয়েছে টাইমিংয়ে, যখন ফিল্ডার বল ছোড়েন তখন থেকে ওভারথ্রো ধরা হয়।

ইংল্যান্ড ওই ৬ রান পাওয়ার পরে নির্ধারিত ৫০ ওভারে নিউজিল্যান্ডের করা ২৪১ রানকে ছুঁয়ে ফেলে, ফলে ম্যাচটি টাই হয়। আর চ্যাম্পিয়ন কে হবে, তা নির্ধারিত হয় সুপার ওভারে – আর শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতে নেয় ইংল্যান্ড।

আইন কী বলছে?

আইসিসির আইনের ১৯.৮ ধারায় বলা হয়েছে: ওভাথ্রোয়ের ক্ষেত্রে যদি বাউন্ডারি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানরা ইতোমধ্যে যে রান করে ফেলেছে, সেই রান যোগ হবে, আর ব্যাটসম্যান যদি একে অপরকে অতিক্রম না করে, সেই রান যোগ হবে না।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গিয়েছে যে শেষ ওভারের চতুর্থ বলে নিউজিল্যাণ্ডের ফিল্ডার মার্টিন গাপটিল যখন থ্রো করেন, তখনও বেন স্টোকস এবং আদিল রশীদ দ্বিতীয় রান নেওয়ার জন্য একে অপরকে অতিক্রম করেননি।

সায়মন টফেল বলেছেন, “থ্রোয়ের সময় তারা দু’জন একে অপরকে অতিক্রম করেননি। দৃশ্যপট যা বলছে, এখানে পাঁচ রান হওয়ার কথা, আর পরের বলেও বেন স্টোকসের নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকার কথা। ”

তবে তিনি এমন কথাও বলেন যে আম্পায়ারদের মনে হতেই পারে ব্যাটসম্যানরা একে অপরকে অতিক্রম করেছে। তবে এখানে আম্পায়ারকে রান আউট দেখতে হবে, দেখতে হবে কখন থ্রো হচ্ছে, কখন ব্যাটসম্যানরা একে অপরকে অতিক্রম করছে।

কী ঘটেছিল তখন?

ইংল্যান্ডের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। এমন সময় বল হাতে নেন ট্রেন্ট বোল্ট। উইকেটে দাঁড়িয়ে বেন স্টোকস প্রথম দুই বলে স্ট্রাইক ছাড়েননি, কোন রানও নেননি।

তৃতীয় বলে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দেন কেন তিনি স্ট্রাইক ছাড়েননি।

তবে ম্যাচের মোড় ঘোরে পরের বলে, যেখানে দৌড়ে মাত্র দুটি রান আসার কথা, সেখানে বেন স্টোকস ডাইভ দেয়ার পর বল ব্যাটে লেগে তা মাঠের বাইরে চলে যায়। তখন আম্পায়াররা সংকেত দেন যে মোট রান হবে ৬।

এ নিয়ে খানিকটা খটকা ছিল মাঠেও – বেন স্টোকস সাথে সাথে হাত উঠিয়ে জানান দেন যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাট বলে লাগাননি।

প্রথমে দৌড়ে নেয়া দুই রানের সাথে যোগ হয় ওভারথ্রোতে আসা চার, মোট রান হয় ছয়। এর ফলে পরের দুই বলে প্রয়োজন ছিল তিন রান।

দুই বলেই দৌড়ে দুই রান নিতে গিয়ে আউট হন নন স্ট্রাইকার। তবে দুটি রান আসে এই দুই বল থেকে, ম্যাচ হয় টাই।

এসএম/আওয়াজবিডি