রিজার্ভ ডে না থাকা নিয়ে যা বললেন আইসিসি সভাপতি রিচার্ডসন


রিচার্ডসন

চলতি ক্রিকেট বিশ্বকাপে একের পর এক ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হচ্ছে। এমন অবস্থায় রীতিমত বিরক্ত ক্রিকেটামোদীরা। প্রিয় দলের খেলা দেখতে না পেরে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন খেলা দেখতে আসা দর্শক। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় সবাই প্রশ্ন তুলছেন, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মতো লীগ পর্বের ম্যাচেও কেন রিজার্ভ ডে রাখা হলো না? এমন প্রশ্নে রিজার্ভ ডে রাখার অপারগতা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন আইসিসি সভাপতি ডেভিড রিচার্ডসন।

তার সেই বিবৃতির অনুবাদ থাকছে আওয়াজবিডি পাঠকদের জন্য।  

'আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচের জন্য একটি করে রিজার্ভ ডে রাখতে চাইলে তা সুনির্দিষ্টভাবে বিশ্বকাপের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দেবে, এরকম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাও বেশ কষ্টসাধ্য।

পিচ প্রস্তুতি, দলগুলোর ভ্রমণ, আবাসন, ভেন্যুর প্রাপ্যতা, টুর্নামেন্টের স্টাফ, স্বেচ্ছাসেবক ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের প্রাপ্যতা ও সম্প্রচারসহ নানা ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যেসব দর্শকরা দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে খেলা দেখতে আসবেন, তাদের জন্যও রিজার্ভ ডের ব্যাপারটি জটিল হয়ে দাঁড়াবে। তার ওপর রিজার্ভ ডেতেও যে বৃষ্টি থাকবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা দেয়ার উপায় নেই।

একটি ম্যাচ আয়োজন ও এর সম্প্রচারের পেছনে প্রায় ১২০০ লোক নিয়োজিত থাকেন, যাদের বেশিরভাগকেই টুর্নামেন্ট জুড়ে এক শহর থেকে আরেক শহরে ছুটতে হয়। তাই লীগ পর্বেও রিজার্ভ ডে থাকলে এই জনবলের সংখ্যা আরও বাড়াতে হতো। সেকারণে শুধু নকআউট পর্বেই রিজার্ভ ডে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ইংল্যান্ডের বর্তমান আবহাওয়া একেবারেই গ্রীষ্মের সাথে অপ্রাসঙ্গিক। জুন হলো যুক্তরাজ্যের তৃতীয় শুষ্কতম মাস। গত দুইদিন যাবত এখানে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা একেবারেই এই সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত। গত বছরও জুনে এখানে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর গত ২৪ ঘণ্টায়ই দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

যখন আবহাওয়াজনিত কারণে কোনো ম্যাচ আক্রান্ত হয়, ভেন্যু রক্ষণাবেক্ষণের দল ও গ্রাউন্ড স্টাফরা আইসিসির ম্যাচ অফশিয়ালদের সাথে একাত্ম হয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, ওভার কমিয়ে হলেও যাতে ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হয়। যেসব দর্শক স্টেডিয়ামে আসেন, অথবা যারা বহুদূর পথ ভ্রমণ করে আসেন তাদের সবাইকেই ঘোষণা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বারা মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও খেলা হওয়ার সম্ভাবনার সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়ে থাকে। '