গঠনতন্ত্রে নিয়ম নেই কিন্তু বিসিবি সভাপতির এত খবরদারি কেন?


মনে হচ্ছে আমরা ওদের শেষ করে দিয়েছি : পাপন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্রের কার্যপরিধি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ যেখানে বাংলাদেশ খেলছে সেখানে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি বা কোনো পরিচালক ম্যাচে কী পরিকল্পনা নেয়া হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা হস্তক্ষেপ করার কথা বলা নেই। ২০১৭ সালে সর্বশেষ সংশোধিত যে গঠনতন্ত্র দেখা যায়, সেখানে সমগ্র বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন, আঞ্চলিক ও জেলা ক্রিকেটের সম্প্রসারণ এবং সারাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করাই ক্রিকেট বোর্ডের মূল কাজ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকরা বোর্ড সভাপতির নেতৃত্বের নানা পদে বহাল থেকে, কোচ ও অন্যান্য কোচিং স্টাফ নিয়োগ, নির্বাচক নিয়োগ ও তাদের কাজের তদারকি করে থাকেন। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেট পরিচালনা, ঘরোয়া ক্রিকেটের নানা নিয়ম নীতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাথে সমন্বয় করে পরিবর্তন ও যথাযথ প্রয়োগের কাজ করে থাকে। এই কাজগুলো সম্পাদনের জন্য প্রতি বিসিবি নির্বাচনের পর কমিটি করা হয় ও সেসব কমিটির সভায় ক্রিকেট অপারেশন্স, গেম ডেভেলপমেন্ট, শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি থেকে শুরু করে গ্রাউন্ডস ও আম্পায়ার্স কমিটি পর্যন্ত করা গয়ে থাকে।

কিন্তু সেখানে ক্রিকেটারদের মাঠের খেলায় কে কোথায় ব্যাট করবে বা অধিনায়ক বোলিং নাকি ব্যাটিং নেবেন এসব কৈফিয়তের কথা বলা নেই। ১৯শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের একটি সংবাদ সম্মেলন হয় যেখানে তিনি বলেন, তিনি ম্যাচের আগে যেসব কথা শোনেন একাদশ, ব্যাটিং অর্ডার ও ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে সেসব মাঠে গিয়ে পাল্টে যায়। তিনি বলেন, "সেরা একাদশ অধিনায়ক ও কোচ ঠিক করবেন সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই। আমি জানতে চাই পরিকল্পনা কী, কে কোথায় খেলছে।"

তিনি জানালেন ঠিক কবে থেকে তিনি এসব বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ, "বিশ্বকাপ থেকে শুরু হয়েছে এটা। আফগানিস্তান সিরিজে, বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে এটা হয়েছে। যে জীবনে ওপরে খেলেনাই তাকে ওপরে খেলানো হচ্ছে। পাকিস্তানে টি টোয়েন্টি দেখতে গেলাম, ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন, আমাকে যেটা বলা হয়েছে সেটার সাথে কোনো মিল নেই।"

নাজমুল হাসান পাপন যোগ করেন, "আমি ঠিক করছি না কিছুই, ব্যাটিং বা বোলিং নিবো এগুলো অধিনায়ক কোচ ঠিক করুক, কিন্তু আমাকে যেটা বলা হয় সেটার উল্টো যাতে না হয়।"

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই প্রধান নানা সময়ে মাঠের খেলা ও খেলোয়াড়দের নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।

দলে কী প্রভাব পড়ে?

আজাদ মজুমদার দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বাইরের নানা সংবাদমাধ্যমে ক্রিকেট নিয়ে লেখালেখি করে আসছেন। তার মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি যেসব মন্তব্য করে থাকের মাঠের খেলা নিয়ে তার সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে দলের কোচ বা ম্যানেজার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

তার মতে, "যেভাবে চান সেভাবে করতে হয়, এটাকে হস্তক্ষেপ বলেন কিংবা চাওয়া পাওয়া সেটা ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।"

বিশ্বের অন্য ক্রিকেট বোর্ডে সভাপতির এমন ভূমিকা আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "বিশ্বের কোন দেশে এই ধরণের অনুশীলন নেই। যেহেতু বোর্ড সভাপতি তিনি চাইলে কোচ বা অধিনায়ককে তলব করতে পারেন বা কৈফিয়ত চাইতে পারেন। কিন্তু সিরিজের মাঝে প্রতিদিন যদি কৈফিয়ত চাওয়া হয় সেক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা থাকে না দলে।"

এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বারবার কোচ পরিবর্তনের কথা টানেন। "কোচিং স্টাফ দেখলেও এটা বোঝা যায়। কোচ আসছেন কোচ যাচ্ছেন। দল হিসেবে একটানা অনেকদিন খেললে সাফল্য পাওয়া যায়, যা জাতীয় দলে পাওয়া দুরূহ।"

অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট বোর্ড সিনিয়র ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠক করেই জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কোচ নিয়োগ দেয়ার সময়কার বিবৃতিতে একথা উল্লেখ করে।

ভারতে কোচ নিয়োগের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি প্যানেল বানানো হয়, সর্বশেষ প্যানেলে ছিলেন কপিল দেব, আনশুমান গেয়কদ ও সান্থা রঙ্গসোয়ামি।

তারা ভিরাট কোহলির সাথে বসে কোচের তালিকা তৈরি ও শেষ পর্যন্ত রাভি শাস্ত্রীকে কোচের দায়িত্ব দেন। ভিরাট কোহলির মতামতকে এক্ষেত্রে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় বলে রিপোর্ট করে ভারতের গণমাধ্যম।

পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট বোর্ড প্রধান মূলত অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাথে পাকিস্তানের ক্রিকেটের একটা সংযোগ স্থাপনের কাজ করে থাকেন।

সূত্র: বিবিসি

ads