চালকলে ভিজিএফের ১৯৫ বস্তা চাল জব্দ


রপ

রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভায় ‘তছলিমা’ নামের একটি চালকল থেকে দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের ১৯৫ বস্তা চাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চালকলটি বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল হক ওরফে মানিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে মুড়ির ব্যবসা করছিলেন গোবিন্দ সরকার নামের এক ব্যক্তি। চালের বস্তা চেয়ারম্যান এনে সেখানে মজুত করেছেন বলে দাবি করেছেন ওই ব্যক্তি।

গতকাল সোমবার রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে ভিজিএফের ১৯৫ বস্তা (৫ মেট্রিক টন ৮৫০ কেজি) চাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নবীরুল ইসলাম। এ সময় বিচারকের নির্দেশে স্থানীয় থানাপাড়া এলাকার গোবিন্দ সরকারকে (৪০) পুলিশ আটক করে।

আটকের আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে গোবিন্দ সরকার জানান, তিনি পাঁচ বছর আগে চালকলটি ইউপির চেয়ারম্যান শহিদুল হকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে সেখানে মুড়ির ব্যবসা করে আসছেন। আদালতের কাছে গোবিন্দ সরকার অভিযোগ করেন, গত ৩১ মে রাত আটটায় চেয়ারম্যান শহিদুল হক ট্রলিতে করে ওই চাল এনে চালকলের একটি কক্ষে মজুত করে রাখেন।

জব্দ করা চালের প্রতিটি বস্তায় চাল রয়েছে ৩০ কেজি।

ইউএনও মো. নবীরুল ইসলাম জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও রমজান মাস উপলক্ষে কালুপাড়া ইউপডর ৪ হাজার ৬১৭ জন দুস্থ ও গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ৬৯ মেট্রিক টন ২৫৫ কেজি ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত শুক্র ও শনিবার ওই চাল বিতরণ শেষ করেন ইউপির চেয়ারম্যান শহিদুল হক। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কিছু গরিব মানুষকে চাল না দিয়ে ১৯৫ বস্তা চাল নিজের চালকলে মজুত করে রাখেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে পুলিশ নিয়ে ওই চালকলে অভিযান চালিয়ে চালের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়।

নবীরুল ইসলাম জানান, পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গোবিন্দ সরকার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন। আটক ব্যক্তি ওই চাল মজুত করার ব্যাপারে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কালুপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান শহিদুল হকের নাম বলেছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে যে–ই জড়িত থাকুক না কেন, প্রমাণ পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান আজ মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে জানান, ওই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গভীর রাতে ১৯৫ বস্তা চাল জব্দ করে তা পুলিশি পাহারায় ওই চালকলেই রাখা হয়েছে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ইউপির চেয়ারম্যান শহিদুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার চালকলটি আমি গোবিন্দ সরকারকে ভাড়া দিয়েছি। এখন কে সেখানে চাল এনে রেখেছে, সেটা আমি জানি না। চাল মজুত রাখার ঘটনায় ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ’