আওয়াজবিডি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার ৩১ মে ২০১৯

রংপুরে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করলো সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র

মেয়েকে ধর্ষণ

রংপুর মহানগরীর আমাশু কুকরুল এলাকায় প্রথম শ্রেণীর এক শিশু ছাত্রীকে (৭) ধর্ষণ করেছে অনিমেষ অনু নামের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্র। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়া মুমুর্ষ অবস্থায় শিশুটিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের এ ঘটনায় রাত ১০টায় পুলিশ অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে নগরীর ৪নং ওয়ার্ডের আমাশু কুকরুল পূর্ব পাড়ার দর্জি কৃষ্ণ রায়ের পুত্র অনিমেষ পার্শ্ববর্তী ওই শিশুটির বাড়িতে যায়। এসময় শিশুটির বাবা ব্যবসার কাজে বাইরে এবং মা ঘুমিয়ে ছিলেন।

এই সুযোগে শিশুটিকে লোভ দেখিয়ে বাড়ির খানকা ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে অনিমেষ। এতে প্রচুর রক্তপাত শুরু হলে শিশুটিকে পাশের একটি ক্রিকেট খেলার মাঠে ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায় অনিমেষ। ঘুম থেকে উঠে ধর্ষিতার মা মেয়েকে না পেয়ে খুঁজতে থাকেন।

পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটির দাদা তাকে ক্রিকেট খেলার মাঠে শুয়ে থাকতে দেখেন। প্রচুর রক্তপাত হতে দেখে দাদা জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি ঘটনা খুলে বলে। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে রংপুরের কামালকাছার মুনমুন ক্লিনিক নিয়ে যান তার মা। সেখান থেকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

শিশুটির দাদা জানান, হাসপাতালে নেয়া হলেও সেখানে এক ঘন্টা কোনো চিকিৎসা দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি পুলিশ কেস বলে থানায় অভিযোগ করতে বলে। আমার ছেলে পরে পরশুরাম থানায় অভিযোগ করলে হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর পুলিশ এসে রক্তাক্ত জামাকাপড়, শপ জব্দ করে নিয়ে যায়। এসময় নিজ বাড়ি থেকে অনিমেষকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশুটির প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় তাকে হাসাপাতালের গাইনি বিভাগের অ্যানেসথেসিয়া ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। পাশে নির্বাক মা। তিনি বলেন, ‘আমার শিশু মেয়েটির ওপর এই অত্যাচার ভগবান সহ্য করবে না। আমি আমার মেয়ের সুচিকিৎসা এবং ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ’

 
শিশুটির রায় জানান, ‘আমি থানায় এসেছি, মামলা দেয়ার জন্য। আমার শিশুটির জন্য আমি সুচিকিৎসা চাই। যাতে যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। আর যে আমার শিশু মেয়ের জীবনটা নষ্ট করে দিলো তার ফাঁসি চাই। ’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পরশুরাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহোসিউল গনি জানান, আমরা খবর পাওয়ার আগেই ধর্ষিতা শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা অনিমেষকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছি। ধর্ষণের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি কিশোর অপরাধ হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Loading...