দাফনের একদিন পর জানা গেল গোলাপি জীবিত


দাফনের একদিন পর জানা গেল গোলাপি জীবিত

রাজশাহীর বাঘায় মবিল মাখানো গোলাপি বেগমের লাশ দাফনের একদিন পর তাকে জীবিত পাওয়া গেছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে আড়ানী রেলস্টেশন থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। গোলাপি বর্তমানে থানা হেফাজতে আছেন। এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন- ওই অজ্ঞাত নারীর লাশটি কার? জানা যায়, ১০ জুন সন্ধ্যায় বাঘা থানা পুলিশ চকবাউসা গ্রামের ভুট্টাখেত থেকে মুখে মবিল মাখানো অজ্ঞাত পরিচয় (৪৫) এক নারীর লাশ উদ্ধার করে।

পরদিন মঙ্গলবার ওই লাশের পরিচয় মেলে। তিনি উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মনির হোসেনের স্ত্রী গোলাপি বেগম বলে স্বজনরা শনাক্ত করেন।

গতকাল সকাল ১০টায় আড়ানী রেলস্টেশন থেকে গোলাপি বেগমকে জীবিত উদ্ধার করে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়।

সেখানে গোলাপি বেগমের মামা শাকিব হোসেন, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ভাসুর মাজদার রহমান, জা সাজেদা বেগমের উপস্থিতিতে আসল গোলাপি বেগমকে শনাক্ত করা হয়। পরে চেয়ারম্যান গোলাপি বেগমসহ উভয় পরিবারকে থানায় পাঠিয়ে দেন। গোলাপি বেগম বলেন, ‘২৯ মে রুস্তমপুর হাটে ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করি। এ টাকা নেওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাপ দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নাম করে রাজশাহীর এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাই।

আমি ছয় বছরের সন্তান মারুফ হোসেন ও পেটের পাঁচ মাসের সন্তানের কথা ভেবে গতকাল সকালে রাজশাহী থেকে ট্রেনে আড়ানী স্টেশনে আসি। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ আমাকে চিনতে পেরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। সেখান থেকে থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ’ গোলাপি বেগমের ভাসুর মাজদার রহমান বলেন, ‘গোলাপি বেগমকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আমি বাদী হয়ে ১ জুন বাঘা থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। মুখে মবিল মাখানোর কারণে সঠিকভাবে লাশটি চিনতে পারিনি। ’

গোলাপি বেগমের শ্বশুর বিচ্ছাদ আলী বলেন, ‘আমার ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় গোলাপি নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করে। প্রতিবাদ করলে আমাদের বিভিন্ন কথা শোনায়। ’ আড়ানী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘গোলাপি বেগমসহ উভয়পক্ষ আমার কাছে এলে তাদের থানায় পাঠাই। তবে আত্মীয়স্বজনের কাছে জেনে এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে মনে হয়েছে, তিনি আসল গোলাপি। ’ বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসীন আলী জানান, উদ্ধারকৃত লাশটি ভুলভাবে তার আত্মীয়রা শনাক্ত করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাশ দাফন করা হয়। এ বিষয়ে একটি মামলাও হয়েছে। এখন গোলাপি বেগম থানা হেফাজতে আছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ওসি বলেন, অজ্ঞাত নারীর লাশ শনাক্ত করা যায়নি।