২০০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা নিচ্ছে গণপরিবহনের বাস


গণপরিবহনের বাস

রাজশাহী থেকে ঢাকায় ফেরার পথেও ভোগান্তি পিছু নিয়েছে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের। সকাল থেকেই ট্রেনে-বাসে লক্ষ্য করা গেছে বাড়তি ভিড়। আসন না পেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছেন লোকজন। গতকাল সোমবারও শিডিউল বিপর্যয় ছিল ট্রেনে।

দুই ঘণ্টা ৩৬ মিনিট দেরিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ছেড়েছে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন সিল্কসিটি এক্সপ্রেস। ফলে রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে অপেক্ষমাণ মানুষের দুর্ভোগের অন্ত ছিল না। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল ট্রেনটির। অনেকেই আগাম টিকিট কেটে চেপেছেন ট্রেনে। কিন্তু অনেকেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়েছেন। কর্মস্থলে ফেরার তাড়ায় ভোগান্তির কথা মাথায় রাখছে না লোকজন।


ট্রেনের পাশাপাশি বাসেও বেড়েছে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গন্তব্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে বাসযাত্রীদের। নগরীর শিরোইল-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড ও ভদ্রা বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে অপেক্ষমাণ মানুষের সারি। প্রতিদিন দুই শতাধিক বাস ছেড়ে যাচ্ছে ঢাকার উদ্দেশে। টিকিট না পেয়ে অনেকেই লোকাল বাসে চেপে পাড়ি দিচ্ছেন গন্তব্যে। তবে এসব বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। যাত্রীরা বলছেন,

ঢাকা যেতে লোকাল বাসে ৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। অথচ অন্যান্য সময় সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় নিয়ে যেত বাসগুলো। আসন না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া গুনছেন যাত্রীরা। রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন পরিচালিত চেকপোস্টে থাকা মোহাম্মদ মোমিন জানান, বাসের ছাদে কোনো যাত্রী পরিবহন করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে সকাল থেকে বাসের চাহিদা বেশি থাকায় লোকাল বাসের সংখ্যা বেড়েছে।

জানতে চাইলে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল করিম জানান, রাজশাহী থেকে সব ট্রেন সময়মতো ছাড়লেও দুই ঘণ্টা ৩৬ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস। প্রতিটি ট্রেনই যাত্রী বোঝাই করে সময়মতো রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছে। তবে আর কোনো ট্রেন যাতে শিডিউল বিপর্যয় না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। লাইনের ধীরগতি এবং বাড়তি চাপে যাত্রীদের স্টেশনে নামতে দেরি হচ্ছে। এটা শিডিউল বিপর্যয় বলে জানান তিনি।

ট্রেনের ছাদে যাত্রীরা যাত্রা করলেও কোনো বাধা দিতে দেখা যায়নি রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মী ও জিআরপি পুলিশকে। তারা ছিলেন নীরব ভূমিকায়। এমনকি ট্রেন প্লাটফর্মে আসার পরও তাদের সেখানে দেখা যায়নি। তবে ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের ওঠার খবর তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইকবাল।