ছাত্রদল নিয়ে বিপাকে বিএনপি, সড়ে দাঁড়ালেন আব্বাস-গয়েশ্বর


আব্বাস-গয়েশ্বর

ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে সঙ্কট সমাধানের দিকে এগুলেও শেষ মুহূর্তে আবার জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঢেলে সাজাতে গিয়ে ছাত্রদল নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি। নানা চেষ্টা করেও ‘বিদ্রোহী’ অংশকে বাগে আনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নেতাদের। বিদ্রোহ দমনে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েও হঠাৎ সেখান থেকে সরে যাওয়ায় নতুন করে সংকটে পড়েছে বিএনপি।

এ অবস্থায় উদ্ভূত সংকট নিরসনে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় তিন নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরে দাঁড়িয়েছেন।

ইতোমধ্যে দল ও অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন কমিটি করছে বিএনপি। কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনে মোটামুটি নির্বিঘ্নে নতুন কমিটি দিয়েছে দলটি। তবে গোল বাঁধিয়েছে ছাত্র বিষয়ক সহযোগী সংগঠনটি।

ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে শুরুতে হার্ডলাইনে থাকলেও এখন কিছুটা নমনীয় হয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া কমিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা।

তারা বলছেন, সম্মেলনের নিয়মকানুন ঠিক রেখেই নতুন কমিটি হোক। তবে তার আগে সাংগঠনিক ক্ষমতা সম্পন্ন আহ্বায়ক কমিটি করা। অন্তত দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে পরিচয় দেয়ার মত সুযোগ পাওয়া যায়। অন্যথায় আবারো মাঠে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কেউ কেউ এ নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক চিন্তা করলেও দলের অনেকেই এর বিরোধিতা করছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, দাবির মুখে দলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলে তা বাজে উদাহরণ সৃষ্টি করবে।

এদিকে পরবর্তী কাজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চকমিটির নেতাদের দিয়ে সম্পন্ন করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও তারেক রহমান বলেছেন, একটু সময় নিয়ে হলেও তাদের নিয়েই ছাত্রদলের সংকট সমাধান করবেন।

ছাত্রদলের বিদ্রোহীদের এখনকার দাবি, সার্চ কমিটির নেতাদের অধীনে একটা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু এখানেই আটকে আছে সিদ্ধান্ত। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটির নেতাদের মধ্যেও এই নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিদ্রোহীদের দিয়ে স্বল্পকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পক্ষে রয়েছেন কয়েকজন। তবে তারেক রহমানের আস্থাভাজন হতে কয়েকজন নেতা বিরোধিতা করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ অবস্থায় বিদ্রোহীরা ফের আন্দোলন নামতে পারে বলে জানা গেছে। ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে করণীয় নিয়ে তারা ফের বৈঠক করবেন।

গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত হয়ে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে কথা বলেন।

ছাত্রদলের বিদ্রোহী নেতারা জানান, সার্চ কমিটির নেতাদের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র তিন নেতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক ছিলেন তারা। তারপরও দল আগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে তারেক রহমান সার্চ কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তার আহ্বায়ক কমিটি না করার পূর্বের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সাবেক ছাত্রনেতাদের তিনি জানিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্রনেতাদের দাবি মানা হবে না। দলের সিদ্ধান্ত মানলে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো আহ্বায়ক কমিটি হবে না। কমিটি নিয়ে টানা বিক্ষোভের মুখে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে বিদ্রোহীদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আশ্বাস দেয় হাইকমান্ড। মূলত তারেক রহমানের আশ্বাসের ভিত্তিতে হাইকমান্ড আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগও নেয়। হঠাৎ মঙ্গলবার রাতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেখান থেকে সরে তার পূর্বের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানান।

সার্চ কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বিদ্রোহী ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত সঙ্কট সমাধানের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন তারেক রহমান। অবশ্য, বিদ্রোহ না করলে ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে তাদের জায়গা করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, ছাত্রদলের সবার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। বিষয়গুলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও জানেন। এখন বাকি যে কাজ তা সাবেক ছাত্রনেতাদের (সার্চ কমিটির)। ’

সার্চ কমিটির অন্যতম নেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘ক্ষুব্ধ নেতাদের বহিস্কারোদেশ প্রত্যাহার করা, আগামী দিনে দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনেসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। বিক্ষুব্ধরা আমাদের ছোট ভাই। তাদের দলে অনেক ত্যাগ রয়েছে, মামলা-হামলায় তারা জর্জরিত, জেল খেটেছেন। তাদের বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তাদেরকে নিয়ে আমরা সব কিছু করব। ’

এদিকে, ছাত্রদলের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাই ভোটগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও সংগঠনের সঙ্কট সমাধান না হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ফরমই বিক্রি করতে পারেনি। আগামী ২৭ অথবা ২৮ জুলাই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই ছাত্রদলের কাউন্সিলের নতুন তারিখ ঠিক করা হবে। ’

এসএম/আওয়াজবিডি