আওয়াজবিডি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার ১১ জুন ২০১৯

মান-অভিমান ঠিক হয়ে যাবে বললেন আব্বাস-গয়েশ্বর

আব্বাস-গয়েশ্বর

কমিটি গঠনের নির্দেশনায় বয়সসীমা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অবশ্য পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিকে অসুস্থাবস্থায় কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাকে দেখতে যান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তারা সেখানে গেলে তালা খুলে দেওয়া হয়। পরে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এই দুই নেতা সাংবাদিকদের বলেন, এটা মান-অভিমান, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।

বিকেল ৫টায় নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে যান মির্জা আব্বাস। এ সময় তালা খুলে দেওয়া হলে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।

২৬ মিনিট পরে সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা আব্বাস । তিনি বলেন, ‘এটা (বিক্ষুব্ধ ছাত্র দলের নেতা-কর্মীদের কর্মসূচি) কিছু না। ওরা মান-অভিমান করেছে, ঠিক হয়ে যাবে। ’

‘বিক্ষুব্ধরা দাবি করছেন আপনি দলের একজন নীতিনির্ধারক’ এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিষয়টা সাংবাদিকরা যেভাবে সিরিয়াসলি নিয়েছে বা উপস্থাপন করেছে আসলে বিষয়টি সেরকম সিরিয়াস না। এটা পোলাপানের কাজকর্ম, মান অভিমানের কাজ। ’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ঈদ গেছে। মান অভিমান হয়েছে। কারো কিছু করতে হবে না। কোনো সালিশ, আলোচনা কিছুই করতে হবে না। ওরা রাগ করেছে, সব ঠিক হয়ে যাবে। ’

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু ও রফিকুল ইসলাম মজনু।

আব্বাস জানান, কার্যালয়ের ভেতরে থাকা রুহুল কবির রিজভী সকাল থেকে অনবরত বমি করছিলেন। তাদের চিকিৎসকরা স্যালাইন দিয়েছেন।

মির্জা আব্বাস থাকা অবস্থাতেই বিকেল সাড়ে ৫টায় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। রিজভীর খোঁজ খবর নিয়ে ১৫ মিনিট পর সেখান থেকে বের হন তিনি। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, ‘এটা কোনো পরিস্থিতি না যদি আপনারা ফলাও করে প্রচার না করেন। কেউ ব্যথা পেলে চিৎকার দেয়; এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দীর্ঘদিন দলের কতগুলো পদ্ধতিগত কারণে অথবা নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ার কারণে যোগ্য ছেলেরা তাদের আরাধ্য লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে নাই। সেই বিষয়টা আমাদের বিবেচনা করতে হবে, এরা দলের জন্য পরিশ্রম করে, এরা বাইরের নয়, এরা দলের মঙ্গল চায়। ’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের মঙ্গল এবং ওদেরও যতটুকু প্রাপ্যটা আছে তা সমাধান করার পখ আমাদের খুঁজতে হবে। এটা অনেক বড় দল, অনেক কর্মী, অনেক নেতা। আমরা বিরোধী দলে আছি, আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। এই সীমাবদ্ধতার মূল কারণটা হলো আমাদের নিয়মিত কাউন্সিল হয় নাই। মামলা-হামলা-নির্যাতনের কারণে নিয়মিত এই সাংগঠনিক কাজগুলো হয়নি। এই নিয়মিত সাংগঠনিক কাজগুলো হলে ওরাও ছাত্রদল করার জন্য এতো আগ্রহী হতো না। ওরাও বুঝে এটা। ’

এই সমস্যার সমাধান কী, প্রশ্ন করা হলে গয়েশ্বর বলেন, ‘সমস্যা যেমন আছে, সমাধানও আছে। আলোচনার মাধ্যমে এটার সমাধান হবে। ’

দলের জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি অসুস্থ। তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। ডাক্তার সেখানে আছেন। ’

রিজভী হাসপাতালে যাবেন কী না প্রশ্ন করা হলে গয়েশ্বর বলেন, ‘এটা চিকিৎসকরা ঠিক করবেন। কিন্তু কোনো পরিস্থিতি বা এই ঘটনার জন্য তাকে বাইরে(হাসপাতাল) যেতে হবে-এটা যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন না। ’

এই দুই নেতা কার্যালয় ত্যাগ করলেও বিক্ষুব্ধ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন। তারা বের হয়ে যাওয়ার পর আবার কার্যালয়ের মূল গেটে তালা দেন তারা।

Loading...