রায়ের ১০ বছর পর কারাগারে ফজলের বদলে সজল


রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগা

বড় ভাই সেলিম ওরফে ফজলের বদলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে জেল খাটছেন ছোট ভাই সজল মিয়া। মামলার রায়ের দীর্ঘ ১০ বছর পর গত ৩০ এপ্রিল বড় ভাই ফজলের বদলে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে নেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন প্রথম ট্রাইব্যুনাল আদালতে নিয়ে আসা হলে সজল উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।

 
সজলের দাবি সঠিক কি না তা শুনানির জন্য মঙ্গলবার সকালে তাকে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কিন্তু এ দিন বিচারক মো. মনসুর আলীর এক নিকাটাত্মীয় মারা যাওয়ায় আদালত বসেনি। পরে তাকে পুনরায় হাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিজেকে 'সজল' বলে দাবি করে সাংবাদিকদের জানান, তিনি নির্দোষ, বাদীপক্ষের প্ররোচনায় পুলিশ পলাতক বড় ভাইয়ের বদলে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

জানা যায়, ভুক্তভোগী সজল মিয়ার বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লায়। তার বাবার নাম তোফাজ উদ্দিন। সজলের বড় ভাইয়ের নাম সেলিম ওরফে ফজল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ফজল দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতেই ২০০৯ সালের ২৮ আগস্ট মামলার রায় হয়।

সেদিন খালাস পান অন্য চার আসামি। এর দীর্ঘ ১০ বছর পর গত ৩০ এপ্রিল সজলকে গ্রেপ্তার করে নগরীর শাহ্ মখদুম থানা পুলিশ। সেদিন তাকে ফজল হিসেবেই আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ২৬ মে সজলের আইনজীবী মোহন কুমার সাহা আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামি বড় ভাইয়ের পরিবর্তে সজল জেল খাটছেন। এ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য্য ছিল মঙ্গলবার।

এদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো কিছু কাগজপত্র থেকে জানা যায়, মামলার রায় ঘোষণার আগে ফজল গ্রেপ্তার হয়ে হাজতি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। তবে একই মামলায় এখন বন্দি কয়েদির সঙ্গে তার অনেক অমিল রয়েছে। মিলছে না উচ্চতাও।

গ্রেফতারকৃত সজল মিয়া বলেন, 'আমি শুধু জানি বড় ভাইয়ের মামলাটা ছিল নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের। কিন্তু কেন মামলাটা হয়েছিল সেটাও জানি না। আমি ডাব বেচতাম। পুলিশ আমাকে বিনাদোষে জেলে পাঠিয়েছে। জেলে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতে হয়। 'এমবি-৪' নম্বর ওয়ার্ডে থাকি। জেলে পুরনো কয়েদিদের বড় যন্ত্রণা। তারা খুব খারাপ আচরণ করে। বিনাদোষে এসব সহ্য করতে হচ্ছে।

এ দিন সজলের ভাই মো. বাবু, ভাবি আফরোজা বেগম, বোন পিয়ারি বেগম, উমে খাতুন, এবং দুলাভাই মো. কালুও আদালতে এসেছিলেন। তারা দাবি করেন, কারাবন্দি সজল মামলার আসামি না। আর আসামি ফজলের কোনো খোঁজ নেই। তিনি বেঁচে আছেন কি না তাও তারা জানেন না।

সজলের আইনজীবী মোহন কুমার সাহা বলেন, 'অপরাধী না হয়েও সত্বেও সজল কারাভোগ করছেন। পুুলিশ ভুল করে অথবা বাদীপক্ষের কাছে প্রভাবিত হয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তার সজল যে আসামি নন তার সমস্ত প্রমাণ তাদের কাছে আছে। শুনানিতে বুধবারই মুক্তি পাবেন সজল। আর আদালতে তিনি নির্দোষ প্রমাণ হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে। '

এ বিষয়ে নগরীর শাহ্ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, তারাও চান না যে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি সাজা খাটুক। কিন্তু গ্রেপ্তার আসামি যে ফজল সে ব্যাপারে মামলার সাক্ষীরা এফিডেফিট করে দিয়েছেন। সেটি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তবে আদালতের শুনানিতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারক মো. মনসুর আলীর এক নিকাটাত্মীয় মারা গেছেন। তাই মঙ্গলবার আদালত বসেনি। তবে সজলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিচারক বুধবারই শুনানির জন্য দিন ধার্য্য করে দিতে বলেছেন আদালতের পেশকারকে। সে অনুযায়ী, বুধবার সজলকে আবার কারাগার থেকে আদালতে আনা হবে। তবে আদালতের পক্ষ থেকে শুনানির দিনে পুলিশকে তলব করা হয়নি।