শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা ও সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের বিবৃতি


মির্জা ফখরুলের বিবৃতি

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলা ও বরেণ্য সাংবাদিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহফুজ উল্লাহ’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (২১ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কায় নারকীয় হামলার নিন্দা ও সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পৃথক বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘খ্রিস্টধর্মের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উদযাপনে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও আশপাশের কয়েকটি গির্জা ও হোটেলে সন্ত্রাসীদের সিরিজ বোমা হামলায় শতাধিক লোকের প্রাণহানি ও শত শত লোকের আহত হওয়া মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। দেশটিতেহ এটি স্মরণকালের ভয়ঙ্করতম পৈশাচিক বোমা হামলা। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দুষ্কৃতিকারীরা নরপিশাচ রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এরা শান্তিময় বিশ্বকে ভয়াল দ্বীপে পরিণত করতেই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। শ্রীলঙ্কায় আজকের এই গভীর সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি তাদের দেশের সরকার ও জনগণের পাশে আছে। সেদেশের সরকার ও জনগণ এই লোমহর্ষক ঘটনায় সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। কাপুরুষের মতো এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করার ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-কৃষ্টি ও গণতন্ত্রমনা সকলকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে শ্রীলঙ্কা সরকার সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস করি। এই সিরিজ বোমা হামলায় বহু মানুষ হতাহতের খবরে আমি গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত। আমি নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি জানাচ্ছি গভীর সহমর্মিতা। ’

এদিকে অপর এক বিবৃতিতে বরেণ্য সাংবাদিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহফুজ উল্লাহ’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা জীবনে তাঁর মতো একজন নির্ভীক সাংবাদিকের চলে যাওয়া দেশবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। গণতন্ত্র হরণ ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বর্তমান অরাজক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বরাবরই তিনি ছিলেন নির্ভীক ও দ্বিধাহীন। অবৈধ সরকারের রক্তচক্ষুর কাছে তিনি কখনোই মাথানত করেননি। সরকারি ক্রোধের পরোয়া না করে গণতন্ত্রের পক্ষে তাঁর উচ্চারণ ছিল শাণিত ও সুস্পষ্ট। বর্তমান দু:সময়ে তাঁর মতো একজন ঋজু ও দৃঢ়চেতা মানুষের বড়ই প্রয়োজন ছিল। দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে সাহসী সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ’র মৃত্যুতে দেশবাসী ও তাঁর পরিবার-পরিজনদের মতো আমিও গভীরভাবে মর্মাহত ও বেদনার্ত হয়েছি। আমি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সতীর্থ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ’

Loading...