ডিএমডি রোগে আক্রান্ত এই শিশুটিকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন


রাজ

চাঁদের মতো ফুটফুটে শিশু রাজ (৮) ডিএমডি রোগে আক্রান্ত। তাকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ফুটন্ত ফুলের মতো এই নিষ্পাপ শিশুটি তার পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। যার কি না এই সুন্দর পৃথিবীর কিছুই দেখা হয়নি। এই বয়সে যার লেখাপড়া, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধূলা আর দুরন্তপনা করে বেড়ানোর কথা। যাকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন দেখছেন তার মা-বাবা, সে আজ বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণছে।

জন্মের পর পাঁচ বছর পর্যন্ত রাজ অন্যদের মতো হাটাচলা করতে পারতো। দস্যিপনা করে মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়তো। কঠিন রোগে সে আজ পাথরে পরিণত হয়ে গেছে। রাজ নিজেও জানে না সে কি রোগে আক্রান্ত কেনো এমন হলো। শুধু মায়া ভরা দু‘চোখে তাকিয়ে থাকে মা-বাবার দিকে। সন্তানের এমন করুণ দৃশ্য দেখে তাদের বুক ফেটে যায়। তবে কি টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় তাদের একমাত্র প্রিয় সন্তানকে হারাতে হবে?

রাজের পিতা রিয়াজুল ইসলাম, মা কলি আক্তার, গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের ক্রোকচর গ্রামে। তিনি পাঁচ্চর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা। স্ত্রী কলি একজন গৃহিনী। রাজ তাদের একমাত্র সন্তান। রাজ জন্মের পাঁচ বছর পরে হঠাৎ করে স্বাভাবিকভাবে হাটাচলায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে রাজের চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু তার শরীরের কোনো উন্নতি হয়নি।

বাংলাদেশের কোথাও তার সুচিকিৎসা না হওয়ায় রাজকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজে। দেখানো হয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পরে ডিএমডি রোগ। তামিলনাড়– রাজ্যের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজের চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ছয় মাস পর পর ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পরেও ডিএমডি রোগের কারণে রাজের দুই পা শুকিয়ে বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এখন তার হাটাচলা তো দূরের কথা দু‘পায়ে ভর করে দাঁড়াতেও পারছে না।

ভারতীয় ডাক্তাররা বলেছেন, এ রোগের কারণে রাজের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যেতে পারে। তাই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রাজের বাবা রিয়াজুল ইসলাম চীনের বেইজিং পুহুয়া ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তিনি জানতে পারেন সেখানে স্টেম সেল অ্যাক্টিভেশন এবং স্টেম সেল ট্র্যান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করানো হয়। তাই তিনি ওই হসপিটালে রাজের চিকিৎসার আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ জানান, এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাতে ১লাখ ৯৫ হাজার চীনা আরএমবি অর্থ্যাৎ ২৯ হাজার ইউএস ডলার যা বাংলাদেশি প্রায় ২৫লাখ টাকার প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ভারতে বিপুল অংকের টাকা ব্যয় করে সন্তানের চিকিৎসার করানোর পর সে এখন নিঃস্ব। তিনি স্বল্প বেতনের একজন সরকারী কর্মচারী। চীনের বেইজিং পুহুয়া ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালে এতো বিপুল অংকের টাকা ব্যয় করে সন্তানের চিকিৎসা করানো তার পক্ষে মোটেই সম্ভব নয়। এ অবস্থায় প্রাণপ্রিয় সন্তান রাজের সুচিকিৎসার জন্য তার পিতা দেশবাসী ও সহকর্মীদের কাছে সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।

আপনাদের এতটুকু সাহায্যই পারে ডিএমডি রোগে আক্রান্ত চাঁদের মতো ফুটফুটে শিশু রাজকে সুচিকিৎসার দ্বারা তার মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দিতে।

তাকে বাঁচাতে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা, পাঁচ্চর, শিবচর, মাদারীপুর। সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর সোনালী ব্যাংক, ২১১৬২০১০৪৫৩৬৬, শিবচর শাখা, মাদারীপুর। বিকাশ ও মোবাইল নম্বর ঃ ০১৭১৮১৩৮১৪৯।