রাজনৈতিক দল কোন খুনির ঠিকানা হতে পারে না ! (পর্ব)-৯


কপ

মানুষের জন্য কি সেই রাজনীতি আছে? এখন কতটা মানবসেবার জন্য এই যুগের মানুষেরা রাজনীতি করতে আসে। কত জন পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে রাজনীতিকে। বর্তমান সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কত ? হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির মহত্তর নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান, তাজউদ্দিন আহম্মেদ, মাওলানা আব্দুল খান ভাসানী, বাংলার নেতা ফজলুর হক, জিয়াউর রহমান ফিরে আসবেন তা আমি বলছিনা। কিন্তু মানুষের জন্য কল্যাণকর কিছু করার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে রাজনীতি করবেন সেই প্রত্যাশাটুকু তো করতে পারি।

কলেজ জীবনে পা রাখার পূর্বে আমি স্যারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম স্যার আমার মাথায় হাত রেখে বললেন, রেদওয়ান কলেজে উঠতে যাচ্ছ ভালো করে পড়া শুনা করবে। আর দেশ নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই তোমার। দেশ কে নিয়ে চিন্তা করার জন্য রাজনীতিবিদরা আছে তারা দেশ নিয়ে চিন্তা করবে। তুমি আপাতত রাজনীতিতে পা বাড়াবে না। আমি তখন স্যারের কথার ফাকে একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বললাম, স্যার তাহলে যে আমার চেয়ে বয়সে ছোটরা রাজনৈতিক মিছিল, মিটিং এ সভা- সমাবেশে দেখি ? স্যার তখন মুচকি হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন বাবা মন দিয়ে পড়া শুনা কর। পারলে ফ্রি টাইমে ভালো লেখকের বই পড়িয়ো।

সেই সুবাদে -গত-রাতে প্রমথ চৌধুরীর একটি লেখা পড়ছিলাম। সেখানে লেখা আছে হাত যন্ত্র বাজাই না, বাজাই প্রাণ / গলা গান গায় না, গান গায় মন।

সত্যিকারের রাজনীতিবিদদের সামনে দেখলে রাজনৈতিক কর্মীদের মন ভরে ওঠে, শান্তি পায় তাদের আত্না। কিন্তু কষ্ট-কর হলেও সত্যি যে বর্তমান রাজনীতিবিদদের কাছে আর সেই রাজনীতি নাই।

পূর্বেই বলেছি, গরিব মানুষে রাজনীতি কেউ আর করতে চাই না। আদর্শের চিন্তা কেউ আর করে না এখন সবাই আগে নিজেরটা বুঝে। আগে দেখতাম এমপি মন্ত্রীরা ছিলেন কর্মী-বান্ধব তারা কর্মীদের মূল্যায়ন করতেন ছুটে যেতেন কর্মীদের কাছে। এখন তো ছুটে যাওয়া দুরের থাক এমপি সাহেবের দেখা পর্যন্ত পাওয়া যায় না। ইতিহাসের টানাপড়েনের সব কিছু এখন পরিবার-বান্ধব হয়ে গেছে, এখন সবাই প্রশংসার ঢেউয়ে ভাসতে চাই। সবাই তোয়াজ পছন্দ করে। আত্নাসমালোচনা, আত্নাশুদ্ধিকর রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে। নেতারা আগে সারা দেশ ঘুরে কর্মী তৈরী করতেন। আর কর্মীরা নেতাদের আদর্শের বাণী নিয়ে মানুষের দারে দারে যেতেন। এখন সেই রাজনীতি কোথায় ?

আমাদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব গুলো সস্তা হয়ে ওঠায় আত্নাসমালোচনা করার চিন্তা ও আর কেউ করে না। আজ-কাল পদ-পদবী ব্রিক্রি হয় টাকার বিনিময়ে। জাতির পিতার একটা বই পড়েছিলাম সে-দিন সেই বইয়ে পিতা বলেছেন, দেশ শাসন করতে হলে নিঃস্বার্থ কর্মী প্রয়োজন, হাওয়ায় কথা চলে না।

সে-দিন স্যারের সাথে দেখা করতে গিয়ে ছিলাম স্যার বললেন, আত্নাসমালোচনা কর, মনে রেখো আত্নাসমালোচনা করতে না পারলে, নিজেকে চিনতে পারবে না তার পর আত্নাসংযম কর, আত্নাশুদ্ধি কর, তাহলেই সমাজের মঙ্গল করতে পারবে।

জাতির মহত্তর নেতা ছাত্রলীগের এখনকার অবস্থা দেখলে নেতা কি বলতেন জানি না। ছাত্রলীগের কর্মীরা এখন এমন কোন অপকর্ম নাই যা তারা করে না। অন্য সংগঠন নয় বরং নিজের দলের নারীরায় নিরাপদ নন। সরকারী দলের রাজনীতি মানে এই নয় যে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে অব কিছুর একটা শেষ আছে। বুঝেছি ক্ষমতায় থাকলে অনেক কিছু সাদা চোখে দেখা যায় না। কিন্তু একটা বড় ঝড় আঘাত হানলে তখন টের পাওয়া যায় কতটা গভীর ছিল সেই ঝড়টা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এখন হারে হারে টের পাচ্ছে। তারা তাদের সময়ে কি ভুল করেছে। এত, এব সময় থাকতে সাবধান হওয়ায় ভালো, না হলে পরে তার খেসারত দিতে হবে।

আমরা এখন বিচিত্র সংস্কূতির মধ্যে বসবাস করছি। এখন সব কিছুতেই ভেজাল আর এই ভেজাল রাজনীতি আমাদের সমাজকে দিনে দিনে শেষ করে দিচ্ছে। অনেকেই মনে করেন সরকারী দলের রাজনীতি মানে সব জায়েস, সব মাফ কেউ কিছু বলবে না, চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, ঘুষ, জমি দখল এগুলো সাত গুন মাফ। আমাদের রাজনীতির ময়দানে পার্ট-টাইম ব্যবসায়ী আর পার্ট-টাইম রাজনীতিবিদদের দাপুটেই এখন বেশি, এ অবস্থা থাকলে তো দেশ অচিরেই ধ্বংসের পথে যাবে।

রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করুন, আমাদের পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন প্রজাতন্ত্রের কাছে জবাবদিহি থাকুক। সরকারী কর্মকর্তাদের রাজনীতি করতে হবে না। অনেক হয়েছে দয়া করে আপনারা এবার আপনাদের কর্মস্থলে ফিরে যান। পুলিশ- প্রশাসন ফিরে যাক দেশসেবায়, ডাক্তার ফিরে যাক মানুষের সেবায়, সাংবাদিক ফিরে যাক সাংবাদিকতায়, শিক্ষক ফিরে যাক শিক্ষকতায়। পেশাজীবি বা সরকারী কর্মকর্তাদের রাজনীতি করতে মন চাইলে চাকুরী ছেড়ে সরাসরী যাওয়াটাই ভালো এভাবে পেশার বারোটা বাজার দরকার কি?

এমনিতেই আমাদের দক্ষজনবলের অভাব। তা ছাড়া রাজনীতিতে স্বাভাবিকতা দরকার সবাই দল করলে তাহলে মানুষের কথা চিন্তা করবে কে ? মানুষের পাশে দাঁড়াবে কে ? যে ভাবে চলছে এভাবে আর কত দিন ? আত্নাসমালোচনার মাধ্যমে শুদ্ধ হতে হবে সবাই কে আত্নাসমালোচনা কোন খারাপ নয়।

এই প্রসঙ্গেঃ  জাতির মহত্তর নেতা তার বইয়ে লিখেছেন, আজকের এই নতুন পুরান যে সমস্ত সিস্টেম আমাদের দেশে চলছে আমাদের আন্তাসমালোচনার প্রয়োজন আছে। পূর্বেই বলেছি আত্নাসমালোচনা না করলে আত্নাশুদ্ধি করা যায় না। আমরা ভুল করবই ভুল না করলে নতুন কিছু শিখতে পারবে না। আমি ভুল নিশ্চয়ই করব, আমি ফেরেশতা নই, শয়তান ও নই আমি মানুষ আমি ভুল করবই।

এখন রাজনীতির নামে চলছে অনিয়মের মহাৎসব, এখন দিনে দিনে নেতা সূষ্টি হচ্ছে। তাদের না আছে আদর্শ, না আছে নীতি, না আছে আধুনিক চিন্তা, ভোগ- উপভোগের খেলায় মেতে ওঠে ওরা সব সময়।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের  বর্ষীয়ান নেতা বিজ্ঞ পার্লারমেন্টেরিয়ান মোহাম্মাদ নাসিম বলেছে,   এখনকার নব্য আওয়ামীলীগ জামাত- বিএনপির চেয়ে ভয়ঙ্কর। আর অন্য দিকে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগে এখন অনেক কাউয়া। সত্যিই তাই নব্য আওয়ামী লীগদের যে আচরণ দেখে মনে হয় তারাই দেশের সব। বাকিরা বানের জলে ভাসে আসছে। এই সব নব্য আওয়ামী লীগরাই দলের সর্বনাশ বয়ে আনে সাবধান থাকতে হবে এদের কাছ থেকে।

বরগুনায় দিন দুপুরে রিফাতকে হত্যা করা হলো, এই নিষ্ঠুর বর্বরতা তো আইয়েমি জাহেলিয়াকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। এদেশে কোথায় মানুষ, কোথায় পুলিশ, কেউ নাই, কিছুই নাই। দীর্ঘ সময় নিয়ে রিফাতকে একের পর এক আঘাতের পর আঘাত জর্জরিত করে হত্যা করা হলো। রাস্তার ১০ টা মানুষও এগিয়ে এলো না। একটা মেয়ে আ-প্রাণ চেষ্টা করেও তার স্বামীকে বাঁচাতে পারেনি। বাংলাদেশের বর্তমান সমাজে আমি দেখেছি এই একটি মেয়েই একটি পুরুষ, এই মিন্নি মেয়েটিই সভ্যতা মানবতার ধারক- বাহক। মিন্নির সাহসের কাছে আমাদের নত হওয়া উচিৎ, রাষ্ট, সমাজ, প্রশাসন সবার মিন্নির কাছে শিক্ষা নেওয়ার দরকার। মিন্নি মেয়ে টা যা করেছে আমরা কেউ তা করতে পারিনি। এখানে আমাদের রাষ্ট, সমাজ, প্রশাসন ব্যর্থ। আর এই ব্যর্থতার দায় আমরা কেউ এড়াতে পারিনা। যে ছেলেটি রিফাতকে হত্যা করেছে সে নাকি বরগুনার সন্ত্রাসী জগতের এক আলোচিত ব্যাক্তি। আমাদের নেতাদের ছায়া তার প্রতি আছে এটা স্বাভাবিক এরকম আশ্রয় না থাকলে কেউ বেড়ে ওঠতে পারে না। এভাবে চলতে পারেনা।

সন্ত্রাসী, চাদাবাজী, মাদক, ব্যবসায়ীদের আশ্রয়- প্রশ্রইয়ের হাতিয়ার রাজনীতিতে হতে পারে না। আর রাজনৈতিক দলে কোন খুনির ঠিকানা হতে পারে না। রাজনীতির নামে টেন্ডার চলতে পারে না, রাজনীতি মানে ব্যবসা নয়। ব্যবসা আর রাজনীতি এক সাথে চলতে পারে না এটা আলাদা করতে হবে। ব্যাংকের ঋণ প্রদানে রাজনীতিবিদদের তদবির বন্ধ করতে হবে। রাষ্টীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কোন অবৈধ আয়ের উৎস করা যাবে না। সর্বস্তরের পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে। দূর করতে হবে রাজনীতির নিষ্ঠুর প্রতিহিংসা।

লেখকঃ মোঃ রেদওয়ানুল হক মিলন

[email protected]

এস, এম/আওয়াজবিডি

Loading...