টুইন টাওয়ার হামলার ১৮ বছর


টুইন টাওয়ার হামলার ১৮ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার হামলার ১৮তম বার্ষিকী বুধবার। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। সেই ভয়াবহ হামলায় গুঁড়িয়ে দেয়া হয় টুইন টাওয়ার।

জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দার সদস্যরা দুটি বোয়িং-৭৬৭ বিমান ছিনতাই করে উত্তর ও দক্ষিণ ভবনের মাঝ দিয়ে আত্মঘাতী হয়। দুই ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে পড়ে ভবন দুটি। এ হামলায় তিন হাজারের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয় সহস্রাধিক মানুষ।

ভয়াবহ এ হামলার প্রভাবে ক্যান্সার, বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ফুসফুসে প্রদাহজনিত নানা সমস্যায় মানুষ মারা গেছেন। এ হামলার দু’দিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে সতর্ক করেছিলেন। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেননি।

এদিকে দীর্ঘ কয়েক বছর পর সেই ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

জানা গিয়েছে, হামলার ঠিক দুদিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশকে ভয়ঙ্কর এই ধরনের হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রাক্তন এক বিশ্লেষক এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে।

আর তা প্রকাশ্যে আসার পরেই নড়েচড়ে বসেছে গোটা বিশ্ব। যদিও এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার তরফে কিছুই জানানো হয়নি। তবে প্রশ্ন হলো এই হামলার সাথে কী যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল।

জর্জ বিবি নামে বুশ আমলের সিআইএ’র এই বিশ্লেষক তাঁর একটি বইয়ে পুতিনের এই সতর্কবার্তা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, হামলার ঠিক দুদিন আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশকে টেলিফোন করেন। তিনি রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেন। পুতিন বুশকে সাবধান করে বলেন, ভয়ঙ্কর ধরনের জঙ্গি হামলার শিকার হতে পারে আমেরিকা। এখনই সতর্ক হন।

শুধু তাই নয়, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এই হামলা আফগানিস্তান থেকে আসতে পারে বলে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্যে দিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করা হয়। জর্জ বিবি বলছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন ব্যক্তিগতভাবে বুশকে লক্ষ্য করে এই যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন তার অর্থ হচ্ছে এটি শুধুমাত্র গোয়েন্দাসংস্থা পর্যায়ের সীমাবদ্ধ ছিল না।

আমেরিকার অনেক সরকারি আধিকারিক বলে থাকেন- নাইন ইলেভেনের হামলায় ১৯ জন আলে-কায়েদা জঙ্গি অংশ নিয়েছিল। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মার্কিন এই তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা মনে করেন মার্কিন সরকারের ভিতরে এমন এক চক্রের অস্তিত্ব ছিল যে তারাও এতে জড়িত। যদিও এই বিষয়ে একাধিক তথ্য উঠে আসলেও নির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

তবে কেন মার্কিন সরকার গোয়েন্দা তথ্যকে আমল দেয় নি সে ব্যাপারে আজও রহস্য থেকে গিয়েছে।