আওয়াজবিডি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার ১২ জুন ২০১৯

কিমের চিঠি পেয়ে আবেগে ভাসছেন ট্রাম্প

ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছ থেকে একটি ‘উষ্ণ’ চিঠি পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাকে তিনি ‘সুন্দর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় এই চিঠির কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করছি সামনে আরো দারুণ কিছু একটা হতে চলেছে, যা খুবই ইতিবাচক। ’

তবে ইতিবাচক কী হতে চলেছে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে বহুদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এ নিয়ে ইতিমধ্যে দুই দফা কিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সিঙ্গাপুর বৈঠকের পর চলতি বছরের গোড়ার দিকে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন ট্রাম্প ও কিম।

কিন্তু ওই বৈঠকেও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে কার্যত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন দুই নেতা। কিম পরমাণু বিষয়ক কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তার দেশের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার শর্তে অটল থাকলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় এই বৈঠক।

এদিকে কিমের চিঠি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বিবৃতি দেয়ার মাত্র একদিন আগেই মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে কিমের সৎ ভাই কিম জং ন্যামের ওপর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলো। এতে বলা হয়, ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে নিহত হওয়া কিমের ভাই ন্যাম মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র হয়ে কাজ করেছিলেন।

মঙ্গলবার ওই রিপোর্ট প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিম জং উনের কাছ থেকে একটি সুন্দর চিঠি পেয়েছি। আমি এই চিঠিকে স্বাগত জানাই। তার সৎ ভাই সিআইএর হয়ে কাজ করতেন বলে যে রিপোর্ট বেরিয়েছে আমি সেটি দেখেছি। এ নিয়ে আমি তাকে (কিমকে) বলেছি, আমার সময়ে এমন কিছু ঘটবে না। আমি এসব হতে দিব না। ’

এরপরই তিনি চিঠি সম্পর্কে বলেন, ‘এটি খুব উষ্ণ আর সুন্দর’একটা চিঠি। আর কিমের দেশ সম্পর্কে তার মন্তব্য, ‘উত্তর কোরিয়া অসাধারণ সম্ভাবনাময় একটি দেশ। ’

ট্রাম্পের কাছে কিম এবারই প্রথম চিঠি পাঠিয়েছেন এমন নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয় বৈঠকের আগেও তার কাছ থেকে একটি ‘দারুণ’চিঠি পেয়েছিলেন ট্রাম্প।

তখন ওই চিঠি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘কিম জং উনের কাছ থেকে আমি একটা দারুণ চিঠি পেয়েছি। তার সঙ্গে এরই মধ্যে আমার খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সিঙ্গাপুরে আমরা ৬ মাস আগে বৈঠকে বসেছিলাম, আবারও বৈঠকে বসতে আমি প্রস্তুত আছি। উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পাবে, উত্তরের নেতাও ঠিক সেটাই চান। '’

কিন্তু তার সেই আশা সফল হয়নি। সিঙ্গাপুর বৈঠকের মতো ব্যর্থ হয়েছে হ্যানয় বৈঠকও।

Loading...
  • উত্তর আমেরিকা এর আরও খবর