জর্জ ফ্লয়েড হত্যা: কারফিউ ভেঙে পুলিশের গাড়িতে হামলা, গ্রেফতার ৪১০০


বিক্ষোভ

রবিবার রাতে সর্বপ্রথম মিনিয়াপোলিস পুলিশ প্রধান মেডারিয়া এরাডন্ডোর মুখোমুখী হলেন নিহত জর্জ ফ্লয়েডের ভাই ফিলোনিজ ফ্লয়েড। তিনি জানতে চান যে, তার নিহত ভাইয়ের ঘাতকেরা বিচারের সম্মুখীন হচ্ছে কিনা।

নিষ্ঠুরভাবে হত্যার জন্যে দায়ী অপর তিন পুলিশ অফিসারকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন? জবাবে পুলিশ প্রধান বলেন, হত্যা মামলার বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন মিনিয়াপোলিস কাউন্টি এটর্নি অফিস। তারাই সবকিছু করছেন আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী।

ফিলোনিজ ফ্লয়েড বলেছেন, চারজনকেই বরখাস্ত এবং গ্রেফতারের পর মামলায় অভিযুক্ত করার মত সকল ডক্যুমেন্ট সর্বসাধরণের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।সুতরাং শুধু একজনকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বিচারের প্রসঙ্গটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অবকাশ থাকতে পারে না। গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশিত ভিডিওতেই অপর তিনজনের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তাদেরকে শুধু বরখাস্ত করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না বলে আন্দোলনকারিরা উল্লেখ করছেন।উল্লেখ্য, রবিবার রাতে সিএনএন-এ প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠান "I Can't Breathe: Black Men Living and Dying in America" এর মাধ্যমে ফ্লয়েডের ভাই এবং পুলিশ কমিশনারকে মুখোমুখী করা হয়েছিল। জানা গেছে, ডেরেক চোভিন নামক পুলিশ অফিসার কর্তৃক হাট দিয়ে ফ্লয়েডের গলাপেচে ধরে হত্যার নিষ্ঠুরতার জন্যে ডেরেককে থার্ড ডিগ্রি হত্যা মামলা এবং ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাকে শুক্রবার সকালে পুলিশ গ্রেফতারের আগে চাকরিচ্যুত করা হয়।

শনিবার তাকে ৫ লাখ ডলার বন্ডে জামিনের নির্দেশ দেয়া হলেও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়নি রবিবার রাত পর্যন্ত। শনিবার তাকে ৫ লাখ ডলার বন্ডে জামিনের নির্দেশ দেয়া হলেও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়নি রবিবার রাত পর্যন্ত। ফ্লয়েডকে বর্ণ-বৈষম্যমূলক আচরণের মাধ্যমে হত্যার সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আরো ৩ অফিসার। তাদেরকেও এই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করার দাবি রয়েছে রাজপথে।

অপরদিকে, মিনেসোটা স্টেট গভর্নর টিম ওয়ালজ রবিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, স্টেটের এটর্নি জেনারেল কীথ এলিসন এই মামলা পরিচালনার নেতৃত্ব দেবেন। এর আগে হেনেপিন কাউন্টি (হত্যা সংঘটিত হবার স্থান) এটর্নি মাইক ফ্রিম্যান বলেছেন, তিনিও কীথ এলিসনকেই এ মামলা পরিচালনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

কারণ, মাইক ফ্রিম্যান হলেন শ্বেতাঙ্গ এবং কীথ এলিসন কৃষ্ণাঙ্গ। বিচারিক প্রক্রিয়াকে আস্থাশীল রাখতেই কীথ এলিসনকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এদিকে, রবিবার রাত ১১টায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কারফিউ ভঙ্গ করে হাজার হাজার মানুষ হোয়াইট হাউজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। তারা মুখোমুখী অবস্থানে পুলিশের। অগ্নি সংযোগের ঘটনাও ঘটেছে এ সময়।

এ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউজের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে জানানো হয়েছে নিজ নিজ পরিচয়পত্র লুকিয়ে রাখতে। হোয়াইট হাউজে হামলার আশংকায় পুরো এলাকা নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে শনিবার রাতের মতোই। দ্বিতীয় রজনীর মত রবিবারও কার্ফিউ জারি রয়েছে মিনিয়াপোলিস সিটিতে। তবে বিক্ষোভ থামেনি।

অপরদিকে, রবিবার সন্ধ্যা থেকে পুনরায় কারফিউ বহাল করা হয়েছে আগের রাতের ২৫ সিটির সাথে আরো ১৫ সিটিতে। অর্থাৎ করোনার কারণে লকডাউন উঠিয়ে নিলেও আন্দোলনের কারণে পুনরায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের গতি রুদ্ধ করা হয়েছে।

গভীর রাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কার্ফিউ ভেঙ্গে আন্দোলনকারিরা পুলিশের মুখোমুখী এবং পুলিশের গাড়িসহ আশপাশের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লিপ্ত রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, ফিলাডেলফিয়া, লসএঞ্জেলেস, মিলওয়াকি, মায়ামী-ডেড কাউন্টি, আটলান্টা, সিয়াটল, পোর্টল্যান্ড, সান্তা মণিকা, সানফ্রান্সিসকো, শিকাগো, কলম্বিয়া, ওরেঞ্জবার্গ, ক্লিভল্যান্ড, টেনেসীর অস্টিনে। রবিবার রাত পর্যন্ত গত ৬ দিনের এ আন্দোলনে গ্রেফতার হয়েছেন ৪১০০ জন। সিটি ও স্টেট পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ads