আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আরও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট ২৬৩


মৃত্যু

আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আরও চার বাংলাদেশি মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৩ জন নিউইয়র্ক, অন্যজন মিশিগানে রাজ্যে। এনিয়ে আমেরিকায় করোনায় ২৬৩জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

২১ মে, বুধবার দিবাগত রাতে মারা গেছেন নিউইয়র্কের শহরের ব্রুকলিনের বাসিন্দা ব্যবসায়ী শেখ আব্দুর রাজ্জাক। নিউইয়র্কের আপ স্টেটের বাফেলো শহরে মারা গেছেন ২২ বছরের তরুন শাহরিয়ার রহমান নাবিল।

এছাড়া নিউইয়র্ক শহরের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকার বাসিন্দা এক নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে আসার দিনই বুধবার গভীর রাতে হাসপাতালেই মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে কমিউনিটিতে। খবর নিয়ে জানা গেছে বেশ বাংলাদেশি অনেক নারী ও পুরুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবারও আক্রান্ত হয়েছেন। দ্বিতীয়বার আক্রান্ত রোগীর মধ্যে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আবার নিজ ঘরে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। আর এসব ঘটনা কমিউনিটিতে রীতিমত ভীতির সঞ্চার করেছে।

এদিকে নিউইয়র্কে বসবাসরত মহসিন আহমেদ বাবলু দীর্ঘ দেড় মাস যাবত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় মিশিগানের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।

নিউইয়র্কে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ করার জন্য ব্যাপকভাবে কন্টাক্ট ট্রেসিং শুরু হয়েছে। কন্টাক্ট ট্রেসিং করার করার জন্য ফোন দেয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই এ ধরনের ফোন পাওয়ার পর ভুয়া ফোন কল মনে করে কেটে দিচ্ছেন। গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো ২১ মে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, এমন ফোন পেলে যেন গুরুত্ব দেয়া হয়। ফোন কলের সাথে সাথে ফোনে বার্তা দেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাসে সংক্রমণ হয়েছে এমন কোন লোকের সংশপর্শে আশার তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নজরদারী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কন্টাক্ট ট্রেসিং করে লোকজনের সম্ভাব্য সংক্রমণ সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এধরনের বার্তা পেলে নিজের, পরিবারের এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরী মনে করে গুরুত্ব দেয়ার জন্য গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কের মেয়র ডি ব্লাজিও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উন্নতি দেখে মনে করা হচ্ছে জুন মাসের এক থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে নিউইয়র্ক নগরী প্রধম ধাপের খুলে দেয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সাতটি বিষয়ের মধ্যে চারটি ক্ষেত্রেই নগরীতে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে বলে মেয়র জানিয়েছেন।

টানা ১৪ দিন হাসপ্তালে ভর্তির সংখ্যা হ্রাস পাওয়া , টানা ১৪ দিনে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাওয়া , মাসে নগরীর এক হাজার নাগরিকের মধ্যে গড়ে ৩০ জনের টেস্টিং সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর এক লাখ নাগরিকের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তির গড় সংখ্যা দুইজনের নীচে নেমে আসছে।

কয়েকদিনের মধ্যে প্রতি এক লাখ নগরীর বাসিন্দার জন্য ৩০ জন কন্টাক্ট ট্রেসার কাজ করবে বলে মেয়র জানান। মেয়র ডি ব্লাজিও নিউইয়র্ক নগরীর ফ্রি খাবার বিতরণ নিয়ে আবারও তথ্য প্রদান করেছেন। প্রতিদিন নগরীর সকল বোর্ডের মাধ্যমে নগরীতে পাঁচ লাখ খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। আসছে সপ্তাহ থেকে নিউইয়র্ক নগরীতে ১০ লাখ খাবার বিতরণ করা হবে বলে নিউইয়র্কের মেয়র ডি ব্লাজিও জানিয়েছেন।

ads