নিউইয়র্কে ঈদের জামাতে বিশেষ মোনাজাত ফিলিস্তিনি ও কাশ্মীরের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য


নিউইয়র্ক

নবী মোহাম্মদ (সা) বলেছেন, পৃথিবীর সকল মুসলমানেরা একটি মানব দেহের মত। দেহের একটি অংশে আঘাত লাগলে ব্যথা অনুভূত হয় সারা শরীরেই। ভারতীয় মোদি বাহীনির অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার কাশ্মীরি মুসলমানগন আজ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত, অপদস্ত ও কোনঠাসা। যার নিন্দা চলছে এখন পুরো বিশ্ব ব্যাপি।

নিউইয়র্কের মিনি বাংলাদেশ জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় গত রোববার, ১১ই আগষ্ট, ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহার জামাতে নিউইয়র্ক ঈদগাহ’র প্রতিষ্ঠাতা ইমাম কাজী কায়্যূম পাঁচটি জামাতের প্রতিটিতেই ভারতীয় সরকারকে লক্ষ্য করে বলেন, ৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে আপনারা আমাদেরকে সাহায্য করেছেন, এবার কাশ্মীরিরা তাদের বহুল প্রতিক্ষিত স্বাধীনতা চাইতেই তাদের উপর কেন এত জুলুম নির্যাতন?

ইমাম কায়্যূম বলেন, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা ও কাশ্মীরিদের স্বাধীনতার দাবি এখন তুঙ্গে এবং তা নতুন কোন দিশায় মোড় নিচ্ছে প্রতি নিয়ত। তাই বিশ্বের ব্যালেন্সকে সমুন্নত রাখতে এ তিনটি দেশের স্বাধীনতা সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই দিতে হবে। তিনি বলেন, আজকের কাশ্মীরে ঘটমান মোদী সরকারের সন্ত্রাস বিশ্বের সকল সন্ত্রাসকে ম্লান করে দিয়েছে।

তিনি অনতিবিলম্বে কাশ্মীরিদের সাধারণ জীবন যাপনকে ফিরিয়ে দিতে ভারতীয় মোদী বাহীনির প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশ থেকে আগত ভিজিটিং ইমাম শাইখ ফয়সল জালালীও এবারের ঈদুল আদহার ২য় জামাতে ইমামতি করেন এবং খুতবায় কোরবানীর মর্মার্থের উপর গভীর আলোকপাত করেন। অন্তধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কাউন্সিল মেম্বার কোসা কন্সতানতিনিদস নিউইয়র্ক ঈদগাহর মুসল্লিগের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। এসময় বিশিষ্ট কম্যিউনিটি একটিভষ্ট মি. জয় চৌধুরীও তাঁর সাথে ছিলেন।

মুসলিম কম্যিউনিটির সেবায় এগিয়ে আসার, বিশেষ করে সদ্য ঘোষিত জুমুআর নামাজ আদায়কালে মসজিদের আশেপাশে পার্কিং সাসপেন্ড বিলটি উত্থাপনের জন্য নিউইয়র্ক ঈদগাহর পক্ষ থেকে ইমাম কাজী কায়্যূম কাউন্সিম্যানকে তাঁর ঈদ শুভেচ্ছা শেষে মুসলমানদের ঐতিহ্যগত নওশা-পাগডি পরিয়ে দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করেন।

মুসলমানদের ঈদগাহর ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতায় ধন্য হতে প্রচুর সংখ্যক পিতামাতা সকল সংকীর্তাকে ভুলে গিয়ে নিজ সন্তান, পরিবার ও বন্ধুবান্ধব সহ ঈদগাহর জামাতগুলোতে উপস্থিত হবার দৃশ্য সবার মন কেড়েছে দারুণ ভাবে।

ইমাম কায়্যূম আবারো ঐক্য ও একসাথে নিউইয়র্ক ঈদগাহর ঈদ জামাতে এসে নামাজ আদায় করার জন্য এলাকার প্রতিজন সচেতন মুসল্লীর প্রতি আমন্ত্রণ ও অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, প্রবাসে শুধুমাত্র খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ পড়লেই ঈদের ঐতিহ্য বজায় থাকেনা, কতৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষেও রাস্তা বন্ধ করে আমাদের অমুসলিম প্রতিবেশিকে তাদের চলাচলে ও গাড়ি পার্কিং এ ব্যাঘাত ঘটিয়ে এখানে সেখানে ঈদ জামাতের আয়োজন না করে ঈদগাহর জন্য নির্দিষ্ট স্থান জ্যাকসনহাইটস ডাইভারসিটি প্লাজার ঈদ জামাতে এসে ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য সবার প্রতি আবেদন জানান। সিটি কর্তৃপক্ষ আগের দিন মধ্যরাতে রাত নিউইয়র্ক ঈদগাহ ভেন্যু ডাইভার্সিটি প্লাজাকে বিশেষ ভাবে সাফাই করে দিয়ে নামাজের জন্য প্রস্তুত করেন, ইমাম কাজী কায়্যূম সেজন্য তাদেরকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

কাষ্টোডিয়ান মি. আগা সালেহও ঈদ জামাতে বক্তৃতা করেন। কোরবানী ও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে রোদের প্রখর ও তীব্র রশ্মী সহ্য করে ঈদের শেষ জামাতগুলোতে অংশগ্রহণ করে অত্যন্ত ধর্য সহ ঈদ নামাজ ও খুতবা শোনে মুসল্লীগন সহিষ্ণুতার যে পরিচয় দিয়েছেন, ইমাম কাজী কায়্যূম সেজন্য তাহের শুকরিয়া আদায় করেন।