পপি চৌধুরীর দূরভিসন্ধিমূলক অভিযোগের জবাবে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের বক্তব্য


পপি চৌধুরীর দূরভিসন্ধিমূলক অভিযোগের জবাবে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের বক্তব্য

২৮-তম নিউইয়র্ক বইমেলায় পুস্তক বিক্রেতা হিসেবে অংশগ্রহণকারী পপি চৌধুরীর কিছু বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, নারী হওয়ার কারণে তাঁর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, তাঁর এই অভিযোগ সত্য নয়। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন বরাবরের মতো এবারের বই মেলাতেও নারীদের সম-অধিকার নিশ্চিত করা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সচেষ্ট ছিল।

পপি চৌধুরীর “প্রীতম প্রকাশে”র বর্তমান তৎপরতা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রস্থ অন্যান্য বই ব্রিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ মূল্যে স্টল স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছিল, যা তিনি তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেছেন। মেলার তৃতীয় দিন এবারের বই মেলার আহ্বায়ক নিজে গিয়ে তাঁর স্টল পরিদর্শন করেছেন এবং তাঁর স্টলের কী কী আকর্ষণীয় দিক আছে তা জেনে এসেছেন, যেটা পপি চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেছেন। সুতরাং নারী হিসেবে তাঁর স্টলকে অবহেলা করার প্রশ্ন ওঠে না।

অনুষ্ঠানে সর্বশ্রেষ্ঠ স্টলকে পুরস্কার পর্বের আগে মেলা কর্তৃপক্ষ তাঁকে সময়মত মঞ্চে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান। তিনি তখন জানান, তাঁর কোন সাহায্যকারী নেই, ফলে নিজের বইয়ের টেবিল ছেড়ে তিনি যেতে পারবেন না। পরে অনুষ্ঠান চলাকালীন নাম ঘোষিত হয়নি এমন কোন অন্য প্রকাশক উপস্থিত থাকলে তাঁদের মঞ্চে আসতে অনুরোধ করা হয়। সে ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দেশ প্রকাশনীর লুৎফর রহমান চৌধুরী মঞ্চে এসে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তখনও পপি চৌধুরী মঞ্চে আসেন না।

অথচ, এই পর্বটি শেষ হবার পর পপি চৌধুরী অকস্মাৎ মঞ্চে উঠে জোর পূর্বক মাইক নিয়ে বক্তব্য রাখতে চান, যেটা শোভনীয় ছিল না। তাঁর কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি মেলা কর্তৃপক্ষকে শোভনীয় উপায়ে জানাতে পারতেন এবং মেলা কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার জন্য অপেক্ষা করতে পারতেন। তা না করে তিনি যেটা করেছেন, তাতে মেলার প্রতি কোনো ইতিবাচক অঙ্গীকারের প্রকাশ ঘটেনি।

এ প্রসঙ্গে স্মরণযোগ্য যে, পপি চৌধুরী এবং তাঁর স্বামী তপন চৌধুরী দুজনেই ইতিপূর্বে মেলায় অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এসে আর ফেরত যান নি। তাঁদের এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ দ্বারা মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এবং নিউ ইয়র্ক বই মেলার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। “বর্তমানে তিনি মুক্তধারার প্রধান ব্যবস্থাপক বিশ্বজিত সাহা সম্পর্কে যেসব অপবাদ আনছেন এবং অপপ্রচার করছেন, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাচ্ছে। ”

মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এবং নিউইয়র্ক বই মেলা নারীর সম অধিকারের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ। বইমেলার প্রতি বছরের কর্মসূচিতেই তার প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায়। এ বছর মুক্তধারা-জিএফবি পুরস্কার পেয়েছন দিলারা হাশেম। বিভিন্ন সময় বই মেলার উদ্বোধক ছিলেন সেলিনা হোসেন, দিলারা হাশেম, রাবেয়া খাতুন ও পূরবী বসুর মত সাহিত্যিক। আগামীতেও মুক্তধারা এবং নিউইয়র্ক বই মেলা নারীর সম অধিকারের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বিবৃতি দাতারা হলেন:
২৮তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা বৃন্দ: দিলারা হাশেম, জামালউদ্দীন হোসেন, রোকেয়া হায়দার, ড. নূর নবী, গোলাম ফারুক ভুঁইয়া। সভাপতি: ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ। সহ সভাপতি: ফেরদৌস সাজেদীন, নিনি ওয়াহেদ, হাসান ফেরদৌস। সিইও: বিশ্বজিত সাহা। কোষাধ্যক্ষ: তানভীর রাব্বানী। সদস্য: সউদ চৌধুরী, কৌশিক আহমেদ, আহমাদ মাযহার, আদনান সৈয়দ, ফাহিম রেজা নূর, রানু ফেরদৌস, ওবায়দুল্লা মামুন, ইউসুফ রেজা, হারুন আলী, সাবিনা হাই উর্বি, মুরাদ আকাশ, সেমন্তী ওয়াহেদ ও শুভ রায়।

Loading...