নিউইয়র্ক সিটিতে করোনায় মৃত্যু ২০ হাজারের বেশি


বিতরণ
নিউইয়র্কে বিপর্যস্ত প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যে গ্রোসারি সামগ্রী বিতরণ করছে এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ছবি: আওয়াজবিডি

নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোতে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ হাজার। এ ছাড়া করোনা সন্দেহে আরও প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ১৭ মে পর্যন্ত পাঁচ বরোতে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩ জনকে করোনাভাইরাসের সংক্রমিত বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
১৮ মে নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, নিউইয়র্ক নগরী এখনো খুলে দেওয়ার অবস্থায় আসেনি। পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকলে মধ্য জুনের দিকে খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে। নিউইয়র্ক নগরীতে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা টেস্টিং কিট ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। আগামী ১ জুনের মধ্যে ৬০ হাজার টেস্টিং কিট হাতে আসবে। তিনি আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে নগরীতে ৯৫ জনের নিশ্চিত মৃত্যুর কথা জানান। নগরীতে এক দিনে ৬৬৫ জনকে নতুন আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। নিউইয়র্ক নগরীর ১৫০ স্থাপনায় করোনা টেস্ট করা হচ্ছে। টেস্টিং কেন্দ্র খোঁজার জন্য (nyc.gov/covidtes) নগরীর ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ দিয়েছেন মেয়র ব্লাজিও।
নিউইয়র্ক পুলিশ ১৮ মে ব্রুকলিনে রক্ষণশীল ইহুদিদের একটি স্কুল বন্ধ করেছে। এ লকডাউনের সময়ও রক্ষণশীল ইহুদিদের এ স্কুলটি গোপনে পরিচালনা করা হচ্ছিল। বেডফোর্ড ও স্টাইভারসেন্ট এলাকার এ স্কুলে ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ভবনের ছাদে ঘোরাঘুরি করতে দেখে পুলিশ অভিযান চালায়।

এদিকে নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ জিপ কোড অনুযায়ী করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ করেছে। নগরীর কুইন্সে ফার রকওয়ে, ফ্লাশিং এলাকায় বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাসও বেশি। জিপ কোড অনুযায়ী তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নগরীর কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিকদের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা বেশি। নিউইয়র্ক নগরীর স্বাস্থ্য বিভাগ এ নিয়ে গবেষণা করছে। জীবনমানের সঙ্গে ভাইরাসের সংক্রমণের যোগসূত্র নিয়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আমেরিকায় বাংলাদেশি মৃত্যুর সংখ্যাও কমে এসেছে। ১৮ মে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্কে কর্মহীন মানুষ কতটা বিপর্যস্ত সেটা দেখা গেছে ১৮ মে নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ায়। বিপদগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাহায্যে এগিয়ে আসা এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির গ্রোসারি সামগ্রী বিতরণে ছিল লম্বা লাইন। ১৫০টি পরিবারের মধ্যে গ্রোসারি সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিলেও আরও ৩৫টি পরিবারকে দিতে হয়েছে শেষ মুহূর্তে।

এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সেক্রেটারি মো. জাবেদ উদ্দিন বলেন, ‘রোজার শুরু থেকেই সোসাইটির পক্ষ থেকে ইফতারসামগ্রীও বিতরণ করে আসছি। কিন্তু করোনার আঘাতে আমেরিকায় যে মানুষের এমন করুণ অবস্থা দেখব, সেটি কল্পনা করিনি।’

ads