নিউইয়র্কের স্কুলশিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ৪২০ ডলার


নিউইয়র্ক স্কুল

করোনার প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত আমেরিকার নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্কুলেরশিক্ষার্থীদের জন্য ৮৮০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত খাদ্যসহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যারা এর আগে বিনা মূল্যে কিংবা হ্রাসকৃত মূল্যে নিজ নিজ স্কুলে খাবার পেয়েছে, শুধু তারাই এই সুবিধা পাবে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব টেম্পোর্যারি ও ডিজ্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট্যান্স এই ঘোষণা দেয়।

কর্মশালারা জানায়, এই প্রোগ্রামের অধীনে নিউইয়র্কের ২১ লাখ ছাত্রের প্রত্যেকে করোনাভাইরাস মহামারিকালে প্রতি মাসে ৪২০ ডলার করে খাদ্যসহায়তা পাবে।
গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমোর অধীনে থাকা ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচার অনুরোধ করেছে, প্রতিটি পরিবার, যাদের স্কুলপড়ুয়া শিশু আছে, তাদের এই খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শিক্ষার্থীরা এখন স্কুলে যেতে পারছে না। মধ্য মার্চ থেকেই স্কুল বন্ধ আছে।

ফেডারেল ফ্যামিলিজ ফার্স্ট অ্যাক্টের আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলো ফেডারেল সরকারের কাছে ‘প্যানাডেমিক ইবিটি প্রোগামের’ জন্য আবেদন করেছে। ইলেকট্রনিকস বেনিফিট ট্রান্সফার সংক্ষেপে ইবিটি মূলত করোনা মহামারির জন্য সরকারের একটি পদক্ষেপ। চলতি মে মাস থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রকল্পের আওতায় প্রশাসন এই দুর্যোগে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পুষ্টিসম্মত খাবার দেওয়ার লক্ষ্যে তার অভিভাবককে এই খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্কুলে যারা বিনা মূল্যে বা হ্রাসকৃত মূল্যে খাদ্য সহায়তা পেত, এমন প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে ডাকযোগে ইবিটি কার্ড পাঠানো হবে। এ জন্য আলাদা করে কোনো আবেদনের প্রয়োজন নেই। প্রশাসন যাদের উপযুক্ত মনে করবে, শুধু তাদেরই এই সহায়তা দেওয়া হবে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের অস্থায়ী কমিশনার শ্যানন তাহোই বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস মহমারির জন্য খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে নিউইয়র্কের প্রতিটি পরিবার। আশা করি এই খাদ্য সহায়তায় তারা কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত বোধ করবে।’

নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের কমিশনার হাওয়ার্ড জুকার বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শিশুদের যথার্থ শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি হয় না। নিউইয়র্কের হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুলের ক্যাফেটারিয়ার খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল। ইবিটি প্রোগাম তাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে নিশ্চয়ই।’

এদিকে নিউইয়র্কের সাড়ে সাত লাখ স্বল্প আয়ের ব্যক্তি ও পরিবার ইতিমধ্যে স্ন্যাপ প্রোগামের অধীনে খাদ্যসহায়তা পেয়ে আসছে এই করোনাকালে। তিন মাস ধরে তারা খাদ্যসহায়তা পাচ্ছে। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই খাদ্যসহায়তা ১৯৪ ডলার ও চার সদস্যের পরিবারের জন্য ৬৪৬ ডলার করে। স্ন্যাপ বেনিফিটের অধীনে শুধু নির্দিষ্ট কিছু রিটেইল শপ থেকে খাদ্য কেনা যায়। আমাজন, ওয়ালমার্ট ও শপরাইট থেকে অনলাইনে এই খাদ্য কিনতে হয়। ইবিটি বেনিফিটের ক্ষেত্রেও খাদ্য কেনার প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতে পারে।

ads