ঠাকুরগাঁওয়ে নিম্নআয়ের মানুষদের পাশে সাধারণ শিক্ষার্থীরা


বিতরণ

অঘোষিত লকডাউনের ফাঁদে পুরো দেশ। ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে চলেছে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন। এমস্থাবস্থায় নিম্নশ্রেণীর খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য এ যেন আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা। এহেন পরিস্থিতিতে এসব মানুষদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে মাঠে নেমেছে The Warriors of COVID-19 Prevention, Thakurgaon- এই ব্যানারে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৩০ মার্চ) জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে অর্ধশত নিম্নশ্রেণীর খেটে খাওয়া পরিবারের মাঝে ১৭০টা প্যাকেজ বিতরণ করা হয়।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী জানান, কাজ শুরু করেছিলাম সপ্তাখানেক আগে। আমাদের লক্ষ ছিল এই বন্দী অবস্থায় যাদের আয়-রোজগার একটু হুমকীর মুখে তাদের মধ্যে অন্তত ২০-৩০টা পরিবারকেও যেন আমরা ১০-১২ দিন বাসায় অন্তত খিচুরি খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারি। কিন্তু এই ছোট্ট গ্রুপটা (বিশেষ করে এসএসসি '১৭ ব্যাচ) অক্লান্ত পরিশ্রমে আস্তে আস্তে আমাদের ফান্ডও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জায়গা থেকে, নানান পেশার মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটা বড় অনুদান সংগ্রহ করতে পারি আমরা। ২০-৩০টা করতে করতে শেষ পর্যন্ত আমরা টার্গেট করি যে ১৭০টা পরিবারকে আমরা খাবার দিবো প্রথম পর্যায়ে, এবং তাদেরকেই আবার ৪-৫ দিন পর দ্বিতীয় পর্যায়ে একইভাবে খাবার উপকরণ দিবো, এবং প্রয়োজন দেখা দিলে তৃতীয় পর্যায়েও দেয়ার চেষ্টা করবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আজকে ১২০টা প্যাকেজ শেষ করার পরও দেখি আমদের কাছে দ্বিতীয় পর্যায়ের দেয়ার মত অনুদান রয়েছে এবং প্রথম পর্যায়ে ১২০টি পরিবারের জায়গায় আমরা ১৭০-১৮০টা পরিবারকে দিতে পারছি।

যে যেভাবে সাহায্য করেছে সেগুলো আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। এই এখনই ১০০ জনের জন্য প্যাকেট করলাম, তারপর দেখি আরো কে জানি একটা চালের বস্তা রেখে গেছে, বা কোন বড় ভাই সাবান দিতে চেয়েছে পর্যাপ্ত, কেউ লবণ দিয়ে গেছে তো কেউ আলু! আজকের ছোট্ট একটা ঘটনা বলি, প্যাকেটিং করতে করতে দেখি, আরেকটা বস্তাভর্তি চাল! কে দিয়েছে? দেখি এক ছোটভাই, তাঁর ব্যবসা রয়েছে, সে নিজ উদ্যোগে একবস্তা চাল এনে দিয়েছে নিজেই, এবং সে জানাতে এসেছে সে তেল আর লবণ দিয়ে যাবে! ঢাকা থেকে একভাই প্রথম পর্যায়ের চালের পুরোটাই অনুদান দিয়ে দিয়েছেন। আবার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন নক দিয়ে বলল গতপরশু, তাদের ক্লাসে জরিমানার কিছু টাকা জমেছিল যা দিয়ে বছর শেষে সবাই একটা খাওয়ার আয়োজন করে, তারা সে জরিমানার পুরো টাকাটাই এখানে আমাদেরকে অনুদান হিসেবে দিয়ে দিতে চায়। এরকম অনেক উদাহারণ আছে যা বলে শেষ করা যাবে না।

আপনারাও অনেকে সাহায্য করতে চান, বা সামর্থ আছে। আমাদের সাথে আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন, এবং সম্ভব হলে যতটুকু আপনাদের পক্ষে সম্ভব, সাহায্য করার চেষ্টা করুন। আমাদেরকেই যে দিতে হবে তা নয়, আপনার বাড়ির আশেপাশেই হয়তো এমন অনেকে রয়েছে যারা দিন এনে দিন খায় এবং এখন তাদের আয়-উপার্জন বন্ধ, আপনার পক্ষে যতটুকু সম্ভব তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন, রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না।

সবার আগে নিজে নিরাপদ থাকুন, সাবধানে থাকুন, প্রয়োজন ছাড়া বাড়ী হতে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ডোনেশন দিতে পারবেন নিচের নম্বরগুলোতেঃ

***Bkash:
১. 01733999551 (Nur Quraishi (Nill Porasto)- TGBHS-11 batch)
২. 01773256459 (Abdus Sami - TGBHS-12 batch)
৩. 01780695445 (Samayel Washif Chowdhury Ankur – TGBHS-13 batch)
৪. 01784919174 (Samsarabbi Suborno – TGBHS-14 batch)
৫. 01784939236 (Risky Mansurul Haque - TGBHS-16 Batch)

***Rocket:
১. 017806954455 (Samayel Washif Chowdhury Ankur)
২. 017339995515 (Nur Quraishi (Nill Porasto)

***DBBL A/C no.:
১. 2751050004432 (Samayel Washif Chowdhury Ankur)

এসএম মিলন/আওয়াজবিডি

ads