টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ

সরকারি ও বেসরকারি পোষাক ও সরঞ্জাম (পিপিই) পাচ্ছেন কারা ?


টঙ্গী

টঙ্গীর আড়াইশ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের নির্ভয়ে সকল প্রকার রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত সরকারি ও বেসরকারিভাবে আসা প্রায় ২০০সেট পিপিই (হ্যান্ড গ্লাভস, ড্রেস, জুতা, চশমাসহ ইকুইপমেন্ট) পাচ্ছে কারা ? এ প্রশ্ন খোদ হাসপাতালের কর্মচারী ও নার্সদের।

জানা যায়, সরকারি ও বেসরকারিভাবে আসা ২শ সেট পোষাক সামগ্রী হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার এবং আউট সোর্সিংয়ের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েরা পেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নার্স ও ব্রাদার্সদের মধ্যে বিলি করছে না। ফলে প্রতিনিয়িত তাদের আতঙ্কের মধ্যে হাসপাতালে আসা বিভিন্ন রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রথম অবস্থায় সরকারিভাবে হাসপাতালে কর্মরত প্রায় ২৫ জন ডাক্তার, ৬৩ জন নার্স ও ব্রার্দাস, ১০-১২ জন কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ জন আউট সোর্সিং কর্মচারীর জন্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত ১০০ সেট হ্যান্ড গ্লাভস ড্রেস, জুতা, চশমাসহ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) আসার পর হাসপাতালের কর্মরত ২৫ জন ডাক্তার সেগুলো ভাগাভাগি করে নেয় এবং ইমার্জেন্সি বিভাগে মাত্র ৩ সেট, ও সম্ভাব্য করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তত রাখা বিভাগে কর্মরত নার্সদের মধ্যে ৬ সেট বিতরণ করা হয় এবং কিছু আউট সোর্সিং কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বাকিগুলোর হদিস নেই।

অপরদিকে তুষকা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ আরো ১০০ সেট হ্যান্ড গ্লাভস, ড্রেস, জুতা, চশমাসহ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) হাসপাতালকে দেয়ার পরও কর্তব্যরত নার্স বা ব্রাদাস কিংবা সরকাররি কোন কর্মচারীদের তা না দিয়ে একেক জন ডাক্তার দু-সেট করে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার আমাদের বলেছেন এসব পিপিই নাকি নার্স বা ব্রাদাসদের জন্য আসেনি। তাহলে কার জন্য এগুলো ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে কর্তব্যরত একাধিক নার্স ও ব্রাদার্স জানান, আমরা রাতদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে আসা বিভিন্ন রোগীদের সেবা দিয়ে আসছি, কার মধ্যে ভাইরাস আছে আমাদের জানা নেই, যদিও টঙ্গীতে এখনো ধরা পড়েনি কিন্তু আতঙ্ক রয়েছে। এমতাবস্থায় আমাদের পিপিই দেয়া হচ্ছে না। ডাক্তার এবং আউট সোর্সিং কর্মচারীরা সেগুলো ভাগাভাগি করে নিয়ে যাচ্ছেন ! কেনো ? আমাদের কি নিরাপত্তার দরকার নেই ?

তারা আরো বলেন, আমাদের এই হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, ব্রাদার্স, কর্মচারী ও আউট সোর্সিংয়ে কর্মচারীসহ প্রায় ১৬৫ জন কর্মরত রয়েছেন। অথচ সরকারি ও বেসরকারিভাবে ২০০ সেট পিপিই এসেছে। জনপ্রতি ১ সেট করে বিতরণ করা হলেও আরো ৩৫ সেট উর্দ্ধৃত থেকে যায়। তাহলে আমরা কেনো পাবো না ?

এবিষয়ে হাসপাতালের নার্সিং সুপারেন্টেন খাদিজা বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নার্স ও ব্রাদার্সদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমি তত্বাবধায়ক স্যারের সাথে কথা বলেছি, তত্ত্বাবধায়ক স্যার বলেছেন, এগুলো শুধু মাত্র ডাক্তারদের জন্য এসেছে। তারপরও যারা ডিউটিতে আছেন তাদের দেয়া হয়েছে। বাকিগুলো পরবর্তী পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে দেয়া হবে।

এব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পারভেজ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি শুনেছি হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ড. মো. নিজাম উদ্দিন স্যারের নামে সরকারি ভাবে কিছু পিপিই বরাদ্ধ হয়েছে এবং বে-সরকারী ভাবেও কিছু স্যারের নামেই হাসপাতালে এসেছে তবে কতগুলো এসেছে আমার জানা নেই। আমি এখনো পাইনি তবে নার্স বা ডাক্তার যারা ডিউটিতে এসেছেন তারা পেয়েছেন। বাকিগুলো এখনো দেয়া হয়নি। নার্স ও ব্রাদার্সদের অভিযোগের বিষয়টি আমি স্যারকে বলেছি। তিনি খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

এব্যাপারে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ড. মো নিজাম উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারিভাবে কিছু পিপিই এসেছে তবে কতগুলো এসেছে তা এমূহুর্তে সঠিক বলতে পারবো না। এবিষয়ে অফিস আওয়ারে আসলে সঠিক তথ্যটি দিতে পারবো। এগুলো শুধুমাত্র করোনা বিভাগ ও ইমার্জেন্সি বিভাগে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের জন্য। তারপরও পরিস্থিতি মোতাবেক হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের সময় সাপেক্ষে দেয়া হবে।

বেসরকারিভাবে কতগুলো পিপিই এসেছে ? জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আপনি কোথায় শুনেছেন ? বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে করোনা ওয়ার্ডে কিছু এবং যারা ইমার্জেন্সিতে কর্তব্যরত তাদের ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে।

ads