বিয়ের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা দাবি, হাত-মুখ বেধে নির্যাতন


হাত-মুখ বেধে নির্যাতন

নরসিংদীতে সৌদি প্রবাসী এক যুবককে বিয়ের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে। অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করে তার কাছে। তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হাত-পা বেধে তাকে নিপীড়ণ করে অপহরণকারীরা। অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে এসে নির্যাতিত যুবক নিজেই এ তথ্য জানান।

রাসেল জানান, তিনি একজন সৌদি প্রবাসী। তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। বিদেশে থাকাকালীন তার শ্বশুর নয়ন ইসলাম ব্যবসা করার কথা বলে তার কাছ থেকে দু লাখ টাকা ধার নেন। তিনি দেশে ফেরার পর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে শ্বশুর তালবাহানা করতে থাকেন। পরে তার স্ত্রী মন্টির সহায়তায় মিথ্যা মামলায় রাসেলসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে মামলা করেন। জামিনে বেরিয়ে এলে একপর্যায়ে বিবাদ মিমাংসা করার কথা বলে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তাকে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় ডেকে নেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে গ্রেফতারের নামে অপহরণ করে তাকে।

রাসেল অভিযোগ করেন, অপহরণের পর তার উপর নির্যাতন করা হয়। তার বড় শ্যালক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পাপ্পু ও তার বন্ধুরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পাপ্পু ও তার বন্ধুরা শ্বশুর নয়ন ইসলামের নির্দেশে আবারো নির্যাতন করে এসময় তাকে বিবস্ত্র করে তার পুরুষাঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দিয়ে ছবি তোলে, মোবাইলে ভিডিও করে। রাসেলের উপর নির্যাতনের ভিডিও তার মাকে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয়। আইনের সহায়তা না নেয়ার জন্য হুমকিও দেয়া হয়।

ছেলের এমন খবর তার মা শোনার পর হার্ট অ্যাটাক করেন বলে জানান রাসেল। তিনি অভিযোগ করেন, চক্রের মূল হোতা তার কথিত স্ত্রী মন্টি। প্রতারণার জন্য সে অন্তত ৮/১০টি বিয়ে করেছে। পরে, কৌশলে অপহরণকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে আসেন রাসেল। নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করতে গেলে অস্ত্র হাতে তোলা সেসব ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিতে মামলা না করেই ফেরত আসেন রাসেল।

সূত্র: সময় টিভি

ads