শ্যালকের চড়ের প্রতিশোধ নিতেই দুই শিশুকন্যাসহ শ্যালিকাকে জবাই করে হত্যা করে আব্বাস


আব্বাস

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাসহ দুই শিশু কন্যাকে জবাই করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আটক আব্বাস। তিনি নিহত নাসরিনের বোন জামাই।

ঘটনার ১২ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে এক সাংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের এ কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

পুলিশ সুপার জানান, নিহত নাসরিনের বড় বোন ও তার স্বামী আব্বাস প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ করতেন। এরপর নাসরিনের বাসায় আশ্রয় নিতেন তার বোন। এসব ঘটনায় আব্বাসের শ্যালক নাসির একদিন আব্বাসকে চড় মারে। সেই চড়ের প্রতিশোধ নিতে ও পারিবারিক কলহের জেরে ক্ষুব্ধ আব্বাস শ্যালিকা নাসরিন ও তার দুই শিশু কন্যাকে জবাই করে হত্যা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এ কথা স্বীকার করেছে আব্বাস।

পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে পুলিশ। পরে দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার পাম্প হাউজের পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টারের ভিতর থেকে আব্বাসকে আটক করা হয়। সে সময় ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভিতরে অনুষ্ঠানের খাওয়া দাওয়া চলছিল। নিজেকে বাঁচাতে একটি খাওয়ার টেবিলের চারপাশের পর্দার নিচে লুকিয়ে ছিল আব্বাস। পুলিশ সেখান থেকে আব্বাসকে আটক করে। এ ঘটনায় মামলা ও আসামিকে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আব্বাসকে রিমান্ডে আনলে হত্যার বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে বলে জানান পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সিআইখোলা এলাকার ছয়তলার ফ্ল্যাটে মা ও দুই সন্তানকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সে সময় ধৃতর বাকপ্রতিবন্ধি মেয়ে সুমাইয়া ছুরির আঘাতে আহত হয়। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন পেট্রলপাম্প কর্মচারী সুমন মিয়ার স্ত্রী নাসরিন, তার আট বছরের শিশু সন্তান নুসরাত এবং দুই বছরের শিশু খাদিজা।

বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্বামী সুমন কাজ শেষে বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও দুই কন্যার লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসীকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঢাকার ফসেন্সিক বিভাগকে খবর দেয়। পরে দুপুর সাড়ে তিনটায় ফরেন্সিক ইউনিট ও পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে তিনজনের লাশ মর্গে পাঠায়।