ঠাকুরগাঁওয়ে পার্কে মাদক সেবনের অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সারোয়ারসহ আটক চার


ইউপি

ঠাকুরগাঁওয়ের পার্কের নির্জন কক্ষে মাদক সেবনের অভিযোগে স্বপ্নজগৎ পার্কের মালিক ও সদর উপজেলা ৩নং আকচা উইনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার চৌধুরী ও রুহিয়া উইনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মানিক, ঢোলারহাট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ঈশারুল ইসলাম ও মনির হোসেন সহ ৪ জনকে আটক করে সদর থানা পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার (২০ আগষ্ট) দুপুরে আটককূতদের আদালতে তোলা হয়, পরে আদালত তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ওসি আশিকুর রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রুহিয়া- ঠাকুরগাঁও সড়কের পাশে ৩নং আকচা উইনিয়নে অবস্থিত স্বপ্নজগৎ পার্কে ইয়াবা সেবনের উৎস চলছে এমন সংবাদ পেয়ে সদর থানার এসআই মোতাউজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম এ অভিযান চালায়।

এসময় পার্কের ভিতরে নিজস্ব কক্ষে ইয়াবা সেবন অবস্থায় পার্কের মালিক ৩নং আচকা উইনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার চোধুরী ও রুহিয়া উইনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মানিক, ঢোলারহাট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ঈশারুল ইসলাম ও  শহরের টিকিয়া পাড়া মহল্লার মনির হোসেন সহ ৪ জনকে আটক করে এবনহ তাদের কাছে থেকে ৫০ পিচ ইয়াবা জব্দ করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ স্বপ্নজগৎ পার্কে অনেক আগে থেকেই ইয়াবার ব্যবসা চলত, এবং রাতে অসামাজিক কাজ করা হতো। তিনি স্বপ্নজগৎ পার্কটি বন্ধের জন্য প্রশাসকে অনুরোধ জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু একজন বলেন, স্বপ্নজগৎ পার্ক হয়ে আমাদের ছেলে-মেয়ে খারাপ হয়ে গেছে তারা দিন-রাত পার্কে আড্ডা দেয় অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। শহর থেকে বড় লোকদের ছেলে-মেয়েরা এসে খোলামেলা ভাবে কাজ করে আর এ কাজে সারোয়ার চেয়ারম্যান সহযোগিতা করেন।

এবং ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মনছুর আলীও প্রায় এসে মাদক সেবন ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। শুধু মনছুর না আরো অনেক নেতা আসেন রাতে। তাদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন,   আপনারা এমনিতেই জানতে পারবেন আমাকে বলতে হবে না।

তিনি বলেন, সারোয়ার সাবেক চেয়ারম্যান এলাকার মানুষ তাকে অনেক সম্মান করেন কেউ  দোষ করলে তার কাছে যেত সমাধানের জন্য আজ তিনি নিজেই মাদকসেবী, ও তার ব্যবসা করেন এতে এলাকার মানুষের কাছে সে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত হলেন।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, সারোয়ার চেয়ারম্যান দীর্ঘ ৯ বছর চেয়ারম্যানি করেছে এবং ২০০৮ সালে গরীব, দুখীদের চাল রাতের অন্ধকারে গোপনে বিক্রি করে দেয় ৩ নং আকচা উইনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুল হোসেনের ছোট ভাই চাল ব্যবসায়ী হাফিজুলের কাছে। পরের দিন রাত ১০ টায় সেনাবাহিনীর হাতে নিজ কক্ষে মার খেয়ে স্বীকার করলে গরিবদুঃখীদের চাল ফেরত দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, সারোয়ারের চেয়ারম্যানি শেষ গরীবের চাল বিক্রি করার ব্যবসাও শেষ হয়েছে তাই তিনি শিশু পার্কের নামে অসামাজিক কাজ করে টাকা আয় করেন। তিনি কমলমতি শিশুদের নামে গড়া পার্কে যে হারে অসামাজিক কাজ ও মাদক ব্যবসা করেন এবং ছোট ছেলে-মেয়েদের অবৈধ কাজ করার সুযোগ করে দেন, রাতে মাদক ও নারী ব্যবসা করেন তাতে আল্লাহ ও নারাজ তার উপর, কখন যে আল্লাহর গজব পড়বে সারোয়ারের উপর।

পার্কে আর কি কি করা হয় এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিনে ছোট ছেলে-মেয়েদের অবৈধ ভাবে মেলামেশা করার সুযোগ করে দেয়, রাতে নারী ব্যবসা ও মাদক ব্যবসা করেন, এবং সবাই কে নিয়ে সেবন করেন।

কারা কারা জড়িত এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন আছে আরো অনেক জন আছে সময় হলে তাদেও নাম বলা হবে। সর্বশেষ তিনি সারোয়ার চেয়ারম্যানের কঠোর শাস্তি দাবি করেন, এবং প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করে স্বপ্নজগৎ পার্ক সহ যে সকল পার্কে অবৈধ কাজ হয় সেগুলো যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এঘটনায় সোমবার রাতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর থানা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি আকচা ইউনিয়নের স্বপ্নজগৎ পার্কে অসামাজিক মেলামেশা করা ও মেলামেশায় সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধে পার্ক মালিক গোলাম সারোয়ার চৌধুরীসহ ৮ প্রেমিক যুগলকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে পার্ক মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং আটক প্রেমিক যুগলকে তাদের অভিভাবকদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

রেদওয়ানুল/ আওয়াজবিডি