আওয়াজবিডি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার ১১ জুন ২০১৯

পুলিশের ভয়ে ঘরছাড়া ৩০০ পরিবার!

৩০০ পরিবার!

পুলিশের ভয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভালুকাতলা গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবারের মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে এক সপ্তাহ ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে জনশূণ্য ওই গ্রামের লাভলি খাতুনের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ভালুকাতলা গ্রামের লিটন মিয়া নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য। তিনি একটি হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। গত ৪ জুন রাতে পুলিশ লিটনকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে লিটনকে ছিনিয়ে নেন তার স্বজনরা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করে। ওই মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ২৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। পুলিশের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে গ্রেফতার এড়াতে ভালুকাতলা গ্রাম মানুষ শুন্য হয়ে পড়েছে।

 
আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে গ্রামটি প্রায় জনমানবশূন্য দেখা গেছে। গ্রামের প্রবেশ পথে কথা হয় ভালুকাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, গ্রামটিতে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। এখন কোনো পরিবারেই লোকজন বাড়িতে থাকে না। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে গৃহস্থালী কর্মকাণ্ড।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরে তালা দিয়ে বারান্দায় নবজাতককে কোলে নিয়ে বসে আছেন সন্ধ্যা খাতুন। তার চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে তার পরিবারের কেউ জড়িত ছিল না। তারপরও ঈদের দিন রাতে পুলিশ তার শাশুড়ি ও ননদকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। সেই রাত থেকে তার স্বামী আলম মিয়া পলাতক রয়েছেন। শারীরিক অক্ষমতার কারণে সন্ধ্যা খাতুন বাড়ি ছেড়ে পালাতে পারেননি। পাশের গ্রামের এক আত্মীয় তার তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করছেন।

সোমবার সকালের দিকে হত্যা মামলার আসামি লিটন মিয়ার ভাগ্নি লাভলি খাতুনের জনশূণ্য বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে লাভলি খাতুন ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক থাকায় অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধুনট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ওই বাড়িতে লোকজন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ’

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘চার পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করে হত্যা মামলার আসামি লিটন মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়েছে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬০ জনকে আসামি করে থানায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নিরাপরাধ কোনো মানুষকে গ্রেফতার করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ’

Loading...