আওয়াজবিডি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার ২২ মে ২০১৯

কিশোরীকে ধর্ষণ করল ৩ বন্ধু, শিশুকে ২ বন্ধু, সহায়তায় মেম্বার

ধর্ষণ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলায় শিশু ও কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়েছে। দুই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় কাউসার ও ফেরদৌস নামে দুই স্কুলছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপরদিকে, কটিয়াদী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় প্রেমিক সুমনসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও ধর্ষণের শিকার শিশুর স্বজনরা জানায়, পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন পূর্বপাড়া গ্রামের শিশুটির বাবা ঠেলাগাড়ি চালান। মা স্থানীয় একটি মেসে রান্নার কাজ করেন। ১৯ মে রাতে বাড়ির পাশের একটি দোকান থেকে বিস্কুট কিনতে যায় শিশুটি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে ফেরদৌস শিশুটিকে ফুসলিয়ে তার বসতঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তার বন্ধু একই এলাকার রফিকের ছেলে কাউসার মিলে ওই শিশুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। শিশুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে পালিয়ে যায় দুই ধর্ষক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক মদন চন্দ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে সোমবার পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে।

অপরদিকে, কটিয়াদী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় প্রেমিক সুমনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার লোহাজুড়ি ইউনিয়নের উত্তর লোহাজুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উত্তর লোজাজুড়ি গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে সুমনের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৫ মে বিয়ের কথা বলে সুমন মেয়েটিকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের নির্মাণাধীন একটি বাড়ির কক্ষে প্রেমিক সুমন, তার বন্ধু লোহাজুড়ি দশপখি গ্রামের জুলহাস উদ্দিনের ছেলে শোভন ও পূর্বচর পাড়তলা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শামীম কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের কাজে সহায়তা করেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য রশিদ মেম্বার।

পরে সুমন মেয়েটিকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। ১৯ মে অভিযুক্তরা মেয়েটিকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে সোমবার কটিয়াদী থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত একই এলাকার ইউপি সদস্য রশিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। তবে প্রেমিক সুমন ও তার অপর দুই বন্ধু শুভন এবং শামীমকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম।

Loading...