৬শ বছরের মাজারটি এখন শুধুই স্মৃতি!


শুধুই স্মৃতি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ৪ কিঃমিঃ পূর্বদিকে উচাইয়ে অবস্থিত প্রাচীনকালের নির্দশন স্বরুপ ঐতিহাসিক পাথরঘাটা মাজার শরীফ। তুলসীগঙ্গা নদীর পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের স্বাক্ষী হিসেবে এই মাজারটি। অসংখ্য ছোট-বড় পাথর নদীর তলদেশ, পাড় এবং মাজারের চর্তুপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় এর নাম করণ হয় পাথরঘাটা। কালের বির্বতনে এখন সেই পাথর গুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। এখানে সনাতন ধর্মাম্বীদের বিভিন্ন দেবদেবির মুর্তি সম্বলিত কষ্টি পাথরের ন্যায় বড় বড় কয়েকটা পাথর মাজারের চারিপাশে এখনো দৃশ্যমান রয়েছে।

সেই সব পাথরেই সনাতন ও আদিবাসি ধর্মের লোকেরা পুস্পমাল্য ও পুজা করে আসছে বহুকাল যাবৎ ধরে। মাজারটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তার সঠিক হিসাব কেউ বলতে না পারলেও ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে মাজারের দেখভালের দ্বায়িত্বে থাকা খাদেম শুকুর আলী জানান, জমিদার প্রসাদ বাবু সাড়ে ১১ বিঘা জমি দান করেন এই মাজারটির জন্য।

তিনি বলেন, প্রসাদ বাবুর আগে হিন্দু বাদশা গৌড় গৌরাঙ্গ পাথরঘাটার পশ্চিমপাশে নীলকুঠির প্রাসাদে বসবাস করতো, আর জমিদারি কার্যক্রম চালাত। জমিদারের প্রজারাও বসবাস করতেন এখানেই। নীলকুঠির হতে পাথরঘাটা পর্যন্ত চীনের প্রাচীরের মত উচু পাকা রাস্তা ছিল যে পথে জমিদার ও প্রজারা আসা-যাওয়া করত। তাঁদের শাসনকাল শেষে পাথরঘাটার সৌর্ন্দয বিলিন হতে থাকে এবং পাথরঘাটার ইতিহাস হারাতে থাকে।

এসময় মজলুম জননেতা মৌলানা আব্দুল হামিদ ভাষানী টাঙ্গাইল থেকে কিছু ইন্টির গাছ এনে পাথরঘাটার বুকে রোপন করেছিল গাছগুলোর বয়স এখন শত বছরের উপরে। ধর্ম প্রচারের জন্য কোন এক সময় পাথরঘাটায় আসেন হযরত মোঃ নাছির উদ্দিন শাহ রহমতুল্লাহে (আঃ)। মুলত তাঁর কবরকে কেন্দ্র করেই মাজারটি নির্মাণ হয়।

জীবদ্বশায় তিনি সকল ধর্মের লোকদের সমান চোখে দেখতেন বলেই সব ধর্মের লোক আজও তাঁর মাজারে আসে এবং প্রার্থনা করে। প্রতি বছর বাংলা চৈত্র মাসের পহেলা সোমবার মুসলমানদের বাৎসরিক মাহফিল ও চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে সনাতন ও অন্যান্ন ধর্মালম্বীদের বারণী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মাহফিল ও বারণী মেলায় বহু দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন আসে তাদের মনবাসনা পূর্ন করতে। জড়াজীর্ন মাজারটি স্থানীয় সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু এবং মসজিদটি মাজার উন্নয়ন কমিটির সাঃ সম্পাদক আঃ হাকিম মন্ডল নিজস্ব অর্থায়নে পরর্বতীতে আধুনিক মানের নির্মাণ করেন।

আটাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু চৌধুরী বলেন, প্রত্ততান্তিক বিভাগ থেকে ইতিমধ্যেই জরিপের কাজ করেছেন। তাঁদের রিপোট পেলেই প্রায় সাড়ে ছয়’শ বছর আগের পাল বংশের অনেক অজানা তথ্যও আমরা জানতে পারব। সরকার যদি এমন ঐতিহাসিক স্থানটি সংস্কারের পাশাপাশি নতুন কিছু স্থাপনা সৃষ্টি করত তাহলে এটি পর্যটক স্থানপনাও গড়ে উঠতো এমনই মনে করেন আবু চৌধুরী।

আল মামুন/রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি

ads