বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় কিন্ডারগার্টেন স্কুল


কিন্ডারগার্টেন স্কুল

করোনাভাইরাসের কারণে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে যশোরের শার্শ উপজেলার কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোও। স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বাড়ি ভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা।

এতে করে ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ছুটি আরও দীর্ঘ হলে স্কুল টিকবে কিনা, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। আর বন্ধের মধ্যে মালিকরা বেতন দিতে না পারায় সরকারি সহায়তার দিকে চেয়ে আছেন শিক্ষকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ফি ছাড়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলের আয়ের অন্য কোনও উৎস নেই। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আয়ের আরেকটি উৎস টিউশনি।

এর সবই করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে। ঈদের ছুটির পর স্কুল চালু করা সম্ভব না হলে এসব শিক্ষকদের পরিবারের আয়-রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।

শার্শা উপজেলার বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মালিক ও শিক্ষকরা বলেন, সরকারি সহায়তা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে আমরা কোনোভাবেই বের হতে পারবো না।

বেনাপোলের গাজিপুর মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের আয়-রোজগারও। দুই মাস ধরে সবার বেতন-ভাতা বন্ধ। কিন্তু প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা স্কুলের ঘর ভাড়া। সেটার জন্য বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন। অভিভাবকদের কাছ থেকে স্কুলের বেতন আদায় করা যাচ্ছে না। স্কুলের ঘর ভাড়াও পরিশোধ করতে পারছি না।

এই স্কুলের শিক্ষক রিপন হোসেন বলেন, আমাদের স্কুলটিতে নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তানরা লেখাপড়া করে। বেতন অনেক কম। শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা দিয়ে স্কুলের ঘর ভাড়াসহ শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। প্রতি মাসে কিছুটা ঘাটতি থাকে। পরীক্ষার ফি নিয়ে সেসব ঘাটতি পূরণ করা হতো। এর মধ্যে দুই মাস স্কুল বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়ে গেলো। শিক্ষকদের বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে তাদের চরম হতাশায় দিন কাটছে। এই অবস্থায় সরকারের একান্ত সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

বেনাপোল সানরাইজ স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. ইমামুল হোসেন বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এসব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক অবদান রয়েছে। তাই করোনার এই দুর্যোগে সরকারের উচিত আমাদের সহায়তা করা। সরকারই আমাদের অভিভাবক। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

বেনাপোল চেকপোস্টের আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইয়ানুর রহমান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশ ভাড়া বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত। তাই মাসিক আয়ের ৪০ শতাংশ ঘর ভাড়া এবং ৪০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতায় চলে যায়।

বাকি ২০ শতাংশ বা তারও বেশি গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভর্তুকি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আশঙ্কা করছি, শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এসব প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই কঠিন হবে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের সহায়তা কামনা করে তিনি আরও বলেন, 'স্কুলের বেতন-ভাতা তো বটেই, আমাদের অনেকের শেষ আশ্রয়স্থল প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ।

এই করোনা মহামারিতে প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতায় পোশাককর্মী, কৃষকসহ বিভিন্ন খাতের মানুষ ব্যাংক থেকে নানাভাবে সাহায্য পাচ্ছেন। কিন্তু আমরা যারা ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছি, তাদের কী হবে? আমাদের তো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণও দেয় না।

শার্শা উপজেলা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অফিসার রাজমনি বলেন, 'কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়ে আমাদের কোনও পরিকল্পনা নেই। আমরা সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাস শুরু করেছি। এখন মোবাইল, রেডিও ও অনলাইন এই তিনটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যেন সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারি, সে বিষয়ে কাজ করছি।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি

ads