সাংবাদিক ও পুলিশের সঙ্গে এমপি সেলিম ওসামানের মত বিনিময়


এমপি সেলিম ওসামান

করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতে করনীয় বিষয় নিয়ে সাংবাদিক ও পুলিশের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এমপি সেলিম ওসমান ও তাঁর সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল এবং বিকেএমইএ'র পক্ষ থেকে সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশাসনের হাতে ঈদ উপলক্ষ্যে মোট ৩০ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন দেশের চিকিৎসক, পুলিশ সদস্য এবং সাংবাদিকবৃন্দ। এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের করোনা হাসপাতালের ডাক্তারদের থাকা খাওয়া সহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। ডাক্তারদের পর সাংবাদিক এবং পুলিশ সদস্যদের তিনি ঈদ উপলক্ষ্যে এ সম্মাননা উপহার প্রদান করেন।

মত বিনিময় কালে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, করোনা রোগের চিকিৎসা নেই। অন্যান্য দেশ গুলো থেকে দেখে দেখে আমরা যেমনি পারছি সেই ভাবে করোনা মোকাবেলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে মানুষের মন থেকে ভয়টা কেটে গেছে। তাই কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না। সরকার বুঝানোর চেষ্টা করছে। তুমি যেখানে থাকো বাসায় থাকো। অন্যান্য দেশ গুলোতে ঈদের সময় বাসা থেকে বের হতেও দেওয়া হবেনা। ইতোমধ্যে সব কিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ৩০০ শয্যা হাসপাতাল পরিচালনা করছি। আমরা চেষ্টা করছি সেখানে ৩০০ রোগীই যেন ভর্তি করা যায়। হাসপাতালের সামনে একটি মার্কেট রয়েছে। কারো সমালোচনা করছি না। পরিবেশন সুন্দর রাখার একটি বিষয় আছে। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে অনুরোধ রাখবো যাতে দোকান গুলো না থাকে। কারন সেখানেও নিরাপত্তার একটি বিষয় আছে। আমাদের কাজ করতে গিয়ে ভূল হতে পারে। এই ভূল গুলো সংশোধন করতেই আমরা বার বার সাংবাদিকদের সহযোগীতা চেয়েছি। কিন্তু কেউ আমাদের ভূল গুলো নিয়ে আমাদের সাথে কেউ কথা বলেনি। আমরা রোগীদের সাথেও কথা বলার ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম। এখন পর্যন্ত যেহেতু ওষুধ বের হয়নি তাই মানুষ কি করলে ভাল থাকতে পারবে সেগুলো আপনারা সাংবাদিকরা অভিজ্ঞ মানুষের সাথে কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারতেন। অনেকে ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ্য হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সেচ্ছায় কোয়ারিন্টিনে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন। এগুলো আপনারা তুলে ধরতে পারেন খুব ভাল ভাবে।

তিনি আরো বলেন, করোনার শুরুর দিকে আমিও বাসা থেকে বের হইনি। যখন দেখলাম আমাদের ডিসি সিভিল সার্জন সহ গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিরা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে তখন আমি ঘর থেকে বের হয়েছি। এর থেকে আমি আর বসে থাকিনি। আমি যতটুকুই করতে পেরেছি তা করতে আমাকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান মেম্বাররা রাজনীতির উর্ধে এসে সহযোগীতা করেছেন।

আমাদের সরকার চায়নার সাথে আলোচনা করেছেন। চায়না যে পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়ে করোনা নির্মূল করেছে আমরাও হয়তো সেই প্রক্রিয়াটা গ্রহন করবো। করোনা হয়তো বছর ঘুরে আসতে থাকবে। কিন্তু এইডস এর মত এটিও নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে। আমরা আশার বানী শুনতে পারছি ইটালী লক ডাউন খুলে দিচ্ছে সকল ব্যবসা চালু করছে। জার্মানী অর্ডার দিচ্ছে। এতে করে দেখা যাবে ঈদের পর দিনই গার্মেন্টস গুলো খুলে যাবে। বাংলাদেশের বাইরে অনেক দেশে শ্রমিকদের ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। কিন্তু আমরা ৬৫শতাংশ বেতন দিয়েছি অনেকে বোনাসও দিয়েছে। আল্লাহ আমাদের রহমত করছে। আমফান ঝড় থেকে সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করেছেন। দুর্যোগ আসবেই কিন্তু আমাদের সাবধান থাকতে হবে। আর আমাদের সাবধান করার দায়িত্ব সাংবাদিকদের। এখন আমরা একসাথে বসে কথা বলার সুযোগ নাই। আপনারাই পারেন সেগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

সেলিম ওসমান বলেন, কাজ করতে গিয়ে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে সাংবাদিক ও পুলিশ। যদি ডাক্তারদের সার্পোট পর্যাপ্ত না পাওয়া যায় তবে আমাদের করনীয় কি হতে পারে এগুলো আপনাদের মাধ্যমে সুচিন্তিত মতামতের প্রয়োজন। আল্লাহ মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ১০০ বছরে একবার মহামারি দেন। আমি সকলের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করবো সবার মাঝে যেন ইমান ফিরে আসে। আগে এতো সাংবাদিক বা সংবাদপত্র ছিল না। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে তাই সংবাদপত্র সাংবাদিক বেড়েছে প্রতিযোগীতা বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ নারায়ণগঞ্জ এর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাদের মাধ্যমে আমি সকল খবর জানতে পারি। কিন্তু আপনাদের মাঝ থেকে যদি কেউ জড়ে যায় সেটাকে যদি আপনারা তুলে ধরতে না পারেন তাহলে সেটা খুব দু:খজনক।

তিনি বলেন, আমরা সাংবাদিকদের জন্য অনেক কিছু করতে পারতাম। কিন্তু কোন আহবান ছিল না। অনেক জায়গা আছে যেগুলো ব্যবসায়ীরা নিয়ে নিচ্ছে। বন্দরে নদীর পাড়ে একটি জায়গা আছে সেখানে আমরা সাংবাদিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারতাম। কিন্তু কোন আহবান ছিলনা। হয়তো এই দায়িত্বটা আমারই ছিলো আমি করতে পারিনি। আমাদের শীতলক্ষ্যা নদীতে নাসিম ওসমান সেতু, খানপুর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ, বন্দর শান্তিরচরে নীট পল্লী সব কিছুর অনুমদোন পেয়েও থমকে আছে। কারন এগুলো নিয়ে কোন আলোচনা নাই। আপনাদের এগুলো লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। আপনারা সাংবাদিকরা নিজেদের মাঝে বিভক্তি না রেখে আপনার একত্রিত হোন। আমরা একটা সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলবো।

মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বিকেএমইএ এর সহ সভাপতি (অর্থ) মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আসাদুজ্জামান, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) রফিকুল ইসলাম, ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: আসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কামরুল ফারুক, দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদল, দৈনিক শীতলক্ষ্যা পত্রিকার সম্পাদক আরিফ আলম দিপু, দৈনিক সোজাসাপটা পত্রিকার সম্পাদক আবু সাউদ মাসুদ, দৈনিক নারায়ণগঞ্জের আলো পত্রিকার সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি আব্দুস সালাম খোকন, যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আমির হোসেন স্মিথ, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন রবিন, দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি দিলীপ কুমার মন্ডল, দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি এম,এ খান মিঠুসহ অন্যান্যরা।

এসএম/আওয়াজবিডি

ads