আমরা দুর্নীতিতে ‘প্রচন্ড উন্নয়ন’ করেছি : সুলতানা কামাল


সুলতানা কামাল

কোন আইন হবার পরও তা বাস্তবায়ন না করাও দুর্নীতি, এই দুর্নীতি দূর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবি চেয়ারপারসন এডভোকেট সুলতানা কামাল। বাংলাদেশ দুর্নীতিতে ‘প্রচন্ড উন্নয়ন’ করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বুধবার (৯ অক্টোবর) ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ : বাস্তবায়ন, বিদ্যমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ (এনসিডিডব্লিও) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলে গেছে। উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে গেছে। কিন্তু উন্নয়নের সঙ্গে একই তালে কি মানবিককতাকেও সমানে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি? আমরা সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি? উন্নয়ন বলতে কি রাস্তা-ঘাট-ইমারত আর বড় বড় প্রকল্প? যার মধ্যে বালিশ কিনতে লাগবে ১৪ হাজার টাকা। বালিশ তুলতে লাগবে চার হাজার টাকা। তার মানে আমরা উন্নয়ন করেছি দুর্নীতিতে। প্রচন্ড উন্নয়ন করেছি। যার কিছু কিছু নমুনাও বের হয়ে আসছে। সেটিও শুধুমাত্র ক্যাসিনো কেন্দ্রীক শুদ্ধি অভিযানের মধ্যেই। অন্য দিকে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, ক্ষমতা দেখিয়ে মানুষের উপর অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে, ব্যাংক লুট করা হচ্ছে, শেয়ার মার্কেটে কেলিঙ্কারি হচ্ছে এগুলো নিয়ে আমরা কোন কথা বলছি না। সেই জায়গায় আমরা বিরাট উন্নতি করে ফেলেছি।

প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ সালে প্রণয়ন হলেও তা বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের মধ্যে অনীহা রয়েছে উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, যারা এই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছেন তাদের কাছে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে দাবি জানাতে চাই আপনারা এই আইন বাস্তবায়ন করুণ। এটি আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব, পেশাগত দায়িত্ব। পরের পয়সায় নিয়োজিত হয়ে সেখানে বসেছেন। আইন বাস্তবায়ন না করাও দুর্নীতি। দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান চলছে। অনেক বড় বড় কথা শুনছি। আমরা সমাজকে পরিস্কার করে ফেলবো। যারা শুদ্ধি অভিযানের দায়িত্বে আছেন তাদের কাছে এই বার্তাটাও দিতে চাই এই খানেও শুদ্ধি অভিযান হোক।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ প্রণয়নের আগে প্রতিবন্ধীরা সমাজের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছিল। এই আইনের ফলে প্রতিবন্ধীরা তাদের অধিকার পাবে, সম্মানের সঙ্গে জীবনধারণ করতে পারবে। কিন্তু এই আইন হওয়ার পর ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির কোনো সাদৃশ্য আসেনি। প্রতিবন্ধীরা এই আইনের কোনো সুফল ভোগ করতে পারেনি। সংবাদ সম্মেলনে আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট সাতটি প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে তুলে ধরা হয় বাস্তব পরিস্থিতি।

সংবাদ সম্মেলনে ব্লাস্টের গবেষণা উপদেষ্টা মো. তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক, ব্লু ল ইন্টান্যাশনালের ইন কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. রেজাউল করিম সিদ্দিকী, প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদের সভাপতি নাসিমা আক্তার বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজেদা আক্তার।