কঠোর প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী

বর্তমানে দেশের টক অব দ্যা কান্ট্রি ক্যাসিনো। হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ক্যাসিনো। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দখল করে নিয়েছে আলোচিত ক্যাসিনো সংবাদ। ক্যাসিনো উচ্ছেদের সাহসী সিদ্ধান্তে প্রশংসিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি গুঞ্জন আসে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আনুষ্ঠানিক ক্যাসিনো-এর খোঁজ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে পেরে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনিক তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার এবং রাজধানীর বিভিন্ন অবৈধ ক্যাসিনোয় (জুয়া খেলার আসর) অভিযান চালায় র্যাব।

শুধু তাই নয় ক্যাসিনো নিয়ে অভিযান চলাকালে গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে কঠোর হুশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনিয়মকারীদের কাউকে ছাড়া হবে না, ক্যাসিনো নিয়ে মারামারি খুনোখুনি হবে, এগুলো টলারেট করব না। আমি কষ্ট করে সবকিছু করছি দেশের জন্য, দেশের উন্নয়ন করছি, এর ওপর কালিমা আসুক, সেটা আমি কোনোভাবে হতে দেব না। আমি কাউকেই ছাড়ব না।’

ক্যাসিনোতে যেসব বিদেশি কাজ করছে তাদের যারা এনেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাসিনোর সঙ্গে যারা জড়িত বিদেশি, তারা এলো কীভাবে, তারা ভিসা পেল কীভাবে, তাদের বেতন দেওয়া হয় কীভাবে, ক্রেডিট কার্ডে না ক্যাশে। কে ভিসা দিয়ে আনল-সমস্ত কিছু তদন্ত করা হচ্ছে। সবই ধরা হবে।’

কোনো কাজই যেন সরকারের সুনাম নষ্ট না করে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষ বিরক্ত হলে কষ্টার্জিত সফলতা, সরকার পরিচালনার সুনাম নষ্ট হবে। সাধারণ মানুষ বিরক্ত হয় এমন কোনো কাজও করা যাবে না।

সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে নিজের শ্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খেটে দেশকে একটা পর্যায়ে নিয়ে এসেছি, এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। যারা বলেছিল এদেশ বটমলেস বাস্কেট হবে তারাও স্বীকার করেছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।’

এদিকে আজ শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হুশিয়ার উচ্চারণ বরে বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, রাজনৈতিক গডফাদারদেরও কোনও ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় জনগন খুশি। শুধু ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগ নয় সব অপরাধীকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

এ সময় অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এদেশে ক্যাসিনো কালচার আমদানি করেছে এবং আওয়ামী লীগ সরকার সব ক্যাসিনো মালিককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, সরকারের অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। এমন নয় যে নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা প্রথম ৮-৯ মাসেও ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের (বিএনপি) সময় এই ক্যাসিনোগুলো ছিল। তখন তারা কোনও অ্যাকশন নেয়নি।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের দুই নেতাকে ইঙ্গিত করে সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দুই যুবলীগ নেতার একজন মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে বুধবার র্যাব আটক করে।

অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া বুধবার রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর হাজারখানেক নেতাকর্মী নিয়ে সংগঠনের কার্যালয়ে অবস্থান নেন মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। তিনিও ঢাকার অন্তত একটি ক্যাসিনোর মালিক, সেই সঙ্গে একাধিক ক্যাসিনোর টাকা ভাগাভাগির সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে যুবলীগ থেকে শোকজও করা হয়েছে।

এসএম/আওয়াজবিডি