সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসন সুবিধা ৪০ শতাংশ হচ্ছে


সরকারি কর্মচারীদের আবাসন

আগামী বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসন সুবিধা ৪০ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ সচিবকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে ৮ শতাংশ সুবিধা পাচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, নতুন বাজেটে আবাসনসহ ৫২টি প্রকল্পের জন্য ৭ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের অনুশাসন দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ২১টি প্রকল্পের আওতায় ১০৫১০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১০৬২৫ কোটি টাকা। তবে আগামী অর্থবছরে আবাসন সংক্রান্ত ১৭টি প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন ১৪৮৯ কোটি টাকা। এ অর্থ চাওয়া হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদুল খন্দকার জানান, সরকারের উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডকে অধিক গতিশীল করতে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, রূপকল্প ২০২১ ও এসডিজির লক্ষ্যকে সামনে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে স্বল্প ও মধ্য আয়ের লোকজনের জন্য সাশ্রয়ীমূল্যে ফ্ল্যাট নির্মাণ, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আবাসন সুবিধা বাড়ানোসহ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে কুড়িল পূর্বাচল লিংক রোডের পাশে (কুড়িল থেকে বালু নদী পর্যন্ত) ১০০ ফুট চওড়া খাল খননের অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন বাজেটে এ প্রকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

আগামী বাজেটে চট্টগ্রাম উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্পকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে চটগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুর ঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনর্খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক ৪টি বড় প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ঢাকার তীরবর্তী তুরাগ নদীর পাশে বন্যা প্রবাহ এলাকা জলাশয় সংরক্ষণ ও কমপ্যাক্ট উটনশিপ উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। এ প্রকল্পটি শিগগির অনুমোদন দেয়া হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৪টি প্রকল্প।

এগুলো হচ্ছে- ঢাকার মিরপুর হাউজিং এস্টেট বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ৯ হাজার ৪৭৭টি ফ্ল্যাট নির্মাণ, মিরপুরের এইচবিআরআইয়ের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় ছিন্নমূল বস্তিবাসীর জন্য ১ হাজার ৫৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ, ঢাকার বেইলি ড্যাম্প অফিসার্স কোয়ার্টার ক্যাম্পাসে সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ ও রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে বসবাসরত অবাঙালিদের বসিলা পুনর্বাসনের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প। এর বাইরে আবাসিক খাতে আরও ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।