বিশ্বে একইদিনে রোজা-ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাংলাদেশে নেই অগ্রগতি


শাওয়াল মাসের চাঁদ

পরমাণু বিজ্ঞানী ড. শমশের আলী অভিযোগ করে বলেছেন, বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে পুরো বিশ্বে একই দিন রমজান ও ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল সেই সাড়ে তিন দশক আগে। কিন্তু বাংলাদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক দলিল ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর কাছে দেয়া হলেও তিনি তা প্রধানমন্ত্রীকে দিচ্ছেন না।

আর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি বিতর্কিত ও বেশিরভাগ আলেম ওলামাদের মতবিরোধী।

বাংলাদেশে রমজান ও ঈদসহ মুসলমানদের যে কোনো ধর্মীয় উৎসব পালনে হিজরি মাসের তারিখ নির্ধারণে বিবেচনায় নেয়া হয় দেশের যে কোনো স্থানে চাঁদ দেখা নিয়ে। সেক্ষেত্রে বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলিম দেশের সঙ্গেই হিজরি মাসের তারিখের মিল থাকে না।

১৯৮৬ সালে স্থায়ী সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ উঠলেই স্থানীয় সময় অনুযায়ী একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় ওআইসি। সংস্থাটির সদস্যভুক্ত বেশিরভাগ দেশ সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলেও বাংলাদেশ তা মানতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে দাবি হিজরি ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ড. শমশের আলীর।

তিনি জানান, এই দাবি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে একাধিকবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও দাবির বিপক্ষের আলেম সমাজের সঙ্গে বৈঠক করলেও কোনো সমাধান দিচ্ছে না ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হিজরি ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ড. শমশের আলী বলেন, আমরা যে যুক্তিতর্ক দিলাম, তার একটি সারমর্ম ভিডিওসহ প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো হবে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সভার সভাপতি ছিলেন, তিনি পাঠাবেন বলেছিলেন। কিন্তু তিনি দেননি।

তবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি খুবই বিতর্কিত দাবি করে বলেন, এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশের বেশিরভাগ মানুষ তা মানবেন না।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টা এতই বিতর্কিত যে, সরকারের পক্ষ থেকে যদি এই সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। তবে বেশিরভাগই মানবে না। তাছাড়া বেশিরভাগ আলেম ওলামাদের মতবিরোধী। তাদের কাছে এটার ভিত্তি নেই।

এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি পাকিস্তানেও ঈদ ও রোজার তারিখ নির্ধারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

এসএম/আওয়াজবিডি

ads