নিজস্ব উদ্যোগে কুকুর-বিড়ালকে খাবার খাওয়াচ্ছেন নায়লা নাঈম!


নাঈম

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে স্থবির সারাদেশ। নগরজীবন বেশ বিপর্যস্ত। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজের তারকারাও গৃহবন্দী। এরমধ্যে নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে অস্বচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তবে তারকাদের মধ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন মডেল ও অভিনেত্রী নায়লা নাঈম।

স্থবির সময়ের মধ্যেও আলোচিত এ মডেল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে পথের কুকুরদের খাবারের যোগান দিচ্ছেন।
নায়লা নাঈম বলেন, আজও ৮০টির মতো কুকুর খাইয়ে এসেছি। লকডাউনের কারণে কেউ বের হতে পারছেন না। আগে চায়ের দোকান ও হোটেল থেকে উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে পারতো কুকুরগুলো। কিন্তু এখন সব বন্ধ থাকায় তাদের খাবারের উৎস নেই। এতে করে রাস্তার প্রাণী বিশেষ করে কুকুর অনাহারী থাকছে। মানবিকতার জায়গা থেকে আমি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পথের কুকুরদের খাবার দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, গত ৭ দিনে রামপুরা, খিলগাঁও চৌরাস্তা, রাজারবাগ, বনশ্রী, আফতাবনগর, বাড্ডা, লিংক রোড, হাতিরঝিল, গুলশান-১ সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৩০০ কুকুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। একবার খাওয়ালে কয়েকঘন্টা তাদের খাবারের ঘাটতি পূরণ হচ্ছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশের হাজারও সংগঠন খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু রাস্তায় এসব নিরীহ পশুদের জন্য এখন কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

যতদিন নগরীতে লকডাউন অবস্থা চলবে ততোদিনই নায়লা নাঈম নিজের সামর্থ্য দিয়ে রাস্তার কুকুরদের খাইয়ে যাবেন বলে জানান।

বিগত ১২ বছর ধরে প্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন নায়লা নাঈম। রাস্তায়, বাড়িতে অসুস্থ পশুপাখি দেখলেই নিজে চিকিৎসা দিয়ে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেন।

তিনি আরো জানান, যতটুকু করার চেষ্টা করছি এটা পুরোপুরিটাই মানবিকতা। পশুপাখি ছাড়াও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। করোনাভাইরাস ছাড়াও দুর্ঘটনাতেও মৃত্যু হতে পারে। মারা গেলে এই টাকাপয়সা কী হবে? তাই চেষ্টা করি যতটুকু পারি প্রয়োজনে পাশা থাকার। সেটা মানুষ হোক বা প্রাণী হোক।

ads