ঘূর্ণিঝড়ের কবলে চঞ্চল চৌধুরী


চঞ্চল চৌধুরী

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে করেছেন বলে এমনটি জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। ঘূর্ণিঝড়টি বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।

আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যার পর তা বাংলাদেশের ওপর আঘাত হানতে পারে। এদিকে মধ্য বঙ্গোপসাগরে শুটিং করতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়েছেন ‘হাওয়া’ ছবির অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরীসহ অন্যান্য শিল্পী ও কলাকুশলীরা। আজ শুক্রবার বিকেলে তেমনটাই জানিয়েছেন ছবির পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন।

কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন এলাকা ঘিরে শুটিং হচ্ছে ‘হাওয়া’র। মেজবাউর রহমান সুমন বলেছেন, এটা সমুদ্রতীরবর্তী মানুষের গল্প না। একেবারে সমুদ্রের জলের সঙ্গে মিশে যাওয়া জেলেদের গল্প। জলের গল্প। মাছ ধরার ট্রলারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কাহিনি। গভীর সমুদ্রে ১০ থেকে ১৫ দিনের জন্য মাছ ধরতে যায় জেলেরা। সেখানকার অভিজ্ঞতা এটি। আমাদের এ অঞ্চলে জলকেন্দ্রিক যে মিথোলজি আছে, তার একটা আধুনিক উপস্থাপনা বলতে পারেন।

এ কারণেই গভীর সাগরে গিয়ে প্রতিদিন তাঁদের শুটিং করতে হচ্ছে। সেন্ট মার্টিন থেকে ট্রলারে দেড় ঘণ্টা চলার পর সাগরের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে নোঙর করেন তাঁরা। সেখানেই সারা দিন শুটিং হয়। মেজবাউর রহমান সুমন বললেন, প্রতি দিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আমরা সেখানে যাই। যাওয়ার সময় পরিস্থিতি ততটা বুঝতে পারিনি। কিন্তু দুপুরের পর আবহাওয়া দ্রুত খারাপ হতে থাকে।

ঢেউ ভয়ংকর থেকে আরও ভয়ংকর হতে শুরু করে। অনেক উঁচু উঁচু ঢেউ। ট্রলারের লোকজন দ্রুত ফিরে যাওয়ার জন্য তাগিদ দেন। আমরাও সবাই ভয় পেয়ে যাই। ফিরে আসার চেষ্টা করি। কিন্তু সন্ধ্যার আগে সেন্ট মার্টিনের কাছাকাছি এসে মূল ট্রলার থেকে ছোট ট্রলারে কোনোভাবেই নামতে পারছিলাম না। ভয়াবহ স্রোত আর মনে আতঙ্ক তৈরি করার মতো ঢেউ। সঙ্গে বাতাস আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। মনে হচ্ছিল নৌকা একেবার উল্টে যাবে। সব মিলিয়ে খুব খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে সবার।

জানালেন, আবহাওয়া এতটাই বদলে গেছে যে কোস্টগার্ড এসে ছোট-বড় প্রায় সব ট্রলারকে টেকনাফে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছে। ছবির সব শিল্পী ও কলাকুশলী মিলে এখন সেন্ট মার্টিনে আছেন দেড় শ জনের মতো। আজ বিকেলেই সবাই হোটেলে ফিরে গেছেন। মেজবাউর রহমান সুমনের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখনো তিনি ছিলেন সেন্ট মার্টিনে, সাগরের তীরে।

‘হাওয়া’ ছবির অন্যতম অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী। এরই মধ্যে তিনি হোটেলে ফিরে গেছেন। প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমাদের সেন্ট মার্টিন থেকে এতটা দূরে যেতে হয়, যাতে সেখান থেকে কোনো দ্বীপের চিহ্ন দেখা না যায়। এতটা গভীর সমুদ্রে কাজ করছি আমরা। গতকাল খুব ভয় পেয়েছিলাম। বলতে পারেন, জীবন-মৃত্যু হাতে নিয়ে কাজ করছি।

আবহাওয়ার পরিস্থিতির ব্যাপারে তাঁরা আগে থেকে কিছুই জানতে পারেননি। কারণ ট্রলারে কোনো রেডিও ছিল না। আর মধ্যসাগরে কোনো মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক নেই। চঞ্চল চৌধুরী বললেন, আমাদের শুটিং ফ্যাসিলিটিজ যে কতটা অপ্রতুল আর ঝুঁকিপূর্ণ, তা এবার কাজ করতে গিয়ে আবারও বুঝেছি।’

‘হাওয়া’ ছবির শিল্পীদের মধ্যে এখন সেন্ট মার্টিনে আছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুশি, সুমন আনোয়ার, শরিফুল রাজ, রিজভি, নাসির, মাহমুদ প্রমুখ। মেজবাউর রহমান সুমন জানান, ছবির বেশির ভাগ শুটিং শেষ। এখনে আরও কয়েক দিন শুটিংয়ের পর কক্সবাজারেও চার-পাঁচ দিন শুটিং করতে হবে।

সাগর এখন এতটাই উত্তাল, আগামী কয়েক দিন শুটিং করা যাবে না। বললেন, ‘এভাবে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ব, ভাবিনি। তবে কাজের গতি পেছালেও কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। শুটিং আবার কবে শুরু করব, বুঝতে পারছি না।

জেলেদের জীবন নিয়ে যতগুলো ছবি হয়েছে, বেশির ভাগই সমুদ্রপাড়ের জীবন। জেলেদের দুঃখ-দুর্দশার গল্প উঠে এসেছে সেগুলোয়। কিন্তু গভীর সমুদ্রে জলের সঙ্গে জেলেদের জীবন খুব একটা উঠে আসেনি বাংলা ছবিতে। সে গভীর জলের গল্প, জেলেদের জীবনের গল্প বলতেই হাজির হচ্ছে ছবি ‘হাওয়া’।

মেজবাউর রহমান সুমন জানান, গভীর সমুদ্রে গিয়ে শুটিং করতে হচ্ছে। বারবার শুটিং করাটা কঠিন। তাই একবারেই ৪০ দিনের মতো শুটিং করে ছবিটি শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। রোমাঞ্চ ও আনন্দ—দুই অনুভূতিই আছে সেখানে।

এর আগের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে গিয়ে শুটিং করতে হচ্ছে। নানা ঘটনা ঘটছে, রোমাঞ্চকর যেমন, তেমনি আনন্দেরও। জোছনা রাতে সমুদ্রের ভেতরে শুটিং করেছি। এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি