বিয়ের ১৩ দিনের মাথায় বিচ্ছেদের ঘটনাও আছে...


বিয়ের ১৩ দিন

বিনোদন অঙ্গনে সম্প্রতি আলোচিত বিচ্ছেদ অভিনয়শিল্পী অপূর্বর। দ্বিতীয় বিয়ের পর এই অভিনয়শিল্পী ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আদর্শ স্বামীর উদাহরণ হয়ে উঠেছিলেন। নাটকে কয়েক বছর ধরে তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে অপূর্বর দিকে আগ্রহ ছিল অন্য সবার চেয়ে একটু বেশি। হঠাৎ করে সংসারজীবনের ছন্দপতনে সব হিসাব–নিকাশ পাল্টে গেল। সংসার ভাঙনের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের হাত ছিল, এমন কথা ওঠার পর বিষয়টি ভক্তদের জন্য আরও বেশি বেদনার হয়ে ওঠে। বিনোদন অঙ্গনের অপূর্বর বিচ্ছেদের ঘটনাটি দুদিন ধরে বেশ আলোচিত। এই বিচ্ছেদসহ কাছাকাছি সময়ে আরও কয়েকটি অবাক করা বিচ্ছেদের দিকে একনজর চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস

দেশের সিনেমার জনপ্রিয় তারকা শাকিব খানের বিয়ে আর সংসার নিয়েও ভক্তদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। সংবাদমাধ্যম থেকে বিয়ের বিষয়ে কোনো কিছু জানতে চাওয়া হলেই বলতেন, এই তো আগামী বছর কিংবা দুই বছর পর বিয়ে করবেন। বিয়ে করে সংসার যে ৮ বছর সংসার করেছিলেন, তা কাউকে ঘুণাক্ষরে কিছুই জানাতে চাননি। সন্তান জন্মের পর অপুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব যখন চরমে, ঠিক তখনই অপু বিশ্বাস বিয়ের বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন।

এ জন্য তিনি বেছে নেন টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠান। ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল টেলিভিশন চ্যানেলে উপস্থিত হয়ে শাকিবের সঙ্গে নিজের গোপন বিয়ের ঘোষণা দেন অপু বিশ্বাস। এতে আট বছর আগের বিয়ের খবর জনসমক্ষে চলে আসে, এরপরই দুজনের মধ্যে শুরু হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস নিজেদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে দেন। তাঁদের সেই টানাপোড়েন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যায়। সেই বছরের ২২ নভেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে অপুর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান শাকিব খান। তিন মাস পর তাঁদের বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিয়ে হয়। বিয়ের ব্যাপারটি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রেখে তাঁরা দুজন সমানতালে সিনেমার শুটিং অব্যাহত রাখেন। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের বাইরের একটি হাসপাতালে জন্ম হয় শাকিব ও অপুর সন্তান আব্রাম খান জয়ের।

অপূর্ব ও নাজিয়া

২০১১ সালের ১৪ জুলাই বিয়ের দিন সকালে প্রথম আলোকে খুদে বার্তার মাধ্যমে অপূর্ব বলেছিলেন, ‘আজ আমার জীবনের একটি বিশেষ দিন। এই দিনে আমার সবার দোয়া প্রয়োজন। সবার দোয়া আর শুভেচ্ছাই কেবল আমার নতুন জীবনকে আলোকিত করতে পারে। আজ আমি অদিতিকে বিয়ে করতে যাচ্ছি।’ ২০১৪ সালের জুন মাসে মা–বাবা হন তাঁরা। তাঁদের সংসারে আয়াশ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। সম্প্রতি নাজিয়া জানালেন, তাঁদের ৯ বছরের সংসারজীবনে ইতি টেনেছেন। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে অপূর্ব মুখ না খুললেও, সংবাদমাধ্যমে বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের পর রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিচ্ছেদের বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

নাজিয়াকে বিয়ে করার আগে ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট অপূর্ব চুপি চুপি বিয়ে করেছিলেন আরেক অভিনয়শিল্পী প্রভাকে। বিয়ের ৬ মাসের মাথায় ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি অপূর্বর প্রথম সংসারের ইতি টানতে হয়।

এদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের কারণ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে নাজিয়া বলেন, ‘দুজনের চিন্তার জায়গায় এক হচ্ছিল না। এ ছাড়া আরও কিছু কারণ তো ছিলই। বলা যায় বড় ঝামেলাই হয়েছে দুজনের মধ্যে। দুজনই খুব চেষ্টা করেছি একসঙ্গে থাকতে। কিন্তু হলো না। একটা সময় বুঝলাম দুজন আলাদা হয়ে গেলে আমাদের মধ্যে সুসম্পর্কটা টিকে থাকবে, দুজনের সম্মানও বজায় থাকবে। এতে আমাদের সন্তান আয়াশও ভালো থাকবে। কারণ, মনোমালিন্য নিয়ে সংসার করলে আমাদের সন্তানের জন্য খারাপ হতো।’

তাহসান-মিথিলা

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে আদর্শ দম্পতির উদাহরণ হিসেবে তাহসান ও মিথিলার নামটি বেশি উচ্চারিত হতো। সবাইকে অবাক করে ২০১৭ সালে এই দুই তারকার সংসার ভেঙে যায়। অক্টোবরে নিজেদের বিচ্ছেদের কথা স্বীকার করেন দুজনেই। ফেসবুকে মিথিলার সঙ্গে নিজের বিচ্ছেদের খবরটি জানান তাহসান।

সেদিন তাহসান ও মিথিলা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। কয়েক মাস ধরেই আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম কোনো চাপে না থেকে আলাদা থাকার। আমরা জানি, আমাদের এই সিদ্ধান্তে অনেকে ব্যথিত হবেন। সে জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

সে সময় প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে মিথিলা বলেছিলেন, ‘আমাদের বোঝাপড়ায় অনেক দিন ধরে সমস্যা হচ্ছিল। ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বও প্রকট ছিল। জীবন নিয়ে শুরুতে একধরনের পরিকল্পনা ছিল, সময়ের সঙ্গে তা বদলে গেছে। তারপরও এত বছরের সম্পর্ক তো আর এত সহজে কেউ ভেঙে ফেলতে চায় না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কারণ, আমাদের একটি সন্তান আছে। দুই বছর ধরে আলাদা থাকলেও সন্তান আর সংসারের কথা ভেবে আমরা একসঙ্গে কাজ করে ভালো থাকার চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত আমরা বুঝতে পেরেছি, সম্পর্কটা আর টিকবে না।’

একই দিনে তাহসান তাঁর বিচ্ছেদ নিয়ে বলেছিলেন, ‘এ দেশের মানুষ পর্দায় আর পর্দার বাইরে আমাদের জুটি হিসেবে ভালোবেসেছেন, সে জন্য আমরা ধন্য। কিন্তু সমাজ কী বলবে—এই ভয়ে অভিনয় করে সারা জীবন কাটিয়ে দিতে হবে, আমরা দুজন এই ব্যাপারটার সঙ্গে একমত নই।

তাহসান ও মিথিলা ২০০৬ সালে ৩ আগস্ট বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আইরা তেহরীম খান তাহসান-মিথিলা দম্পতির একমাত্র সন্তান।

হাবিব-রেহান

রেহান তো খুবই নরম প্রকৃতির মানুষ। আমার মনে হয় না ওর কোনো রাগ আছে। রাগ থাকলে আমার আছে। ২০১১ সালে দ্বিতীয় বিয়ের চতুর্থ দিন প্রথম আলোকে এমনটাই বলেছিলেন হাবিব। বিবাহবিচ্ছেদের পর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই গায়ক ও সংগীত পরিচালক বলেন, ‘দেখুন, দুজন মানুষের মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে ভালো লাগা, ভালোবাসা কাজ করে। আবার কিছু বিষয়ের সমাধান হয় না। তেমন কিছুই আমাদের মধ্যে হয়েছে। এ কারণে আলাদা হয়ে গেছি।’

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে কণ্ঠশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ ও রেহানের সংসারের ইতি টানা হয়। বিচ্ছেদের সময় উভয়ের সম্মতিতেই কোনো কারণ না বলা হলেও ডিভোর্সের ঘোষণা দেওয়ার মাসখানেক পর বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খোলেন রেহান। তানজিন তিশার সঙ্গে হাবিবের সম্পর্কের জের ধরেই বিচ্ছেদের এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান রেহান। তবে রেহানের সঙ্গে সংসারজীবনের বিচ্ছেদের কিছুদিন আগে তানজিন তিশার সঙ্গেও হাবিবের প্রেমের বিচ্ছেদ ঘটে বলে জানিয়েছেন রেহান।

২০১১ সালে ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের মেয়ে রেহান চৌধুরীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় গায়ক ও সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদের। পাঁচ বছরের দাম্পত্যজীবনে ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাঁদের ঘর আলোকিত করে আসে একমাত্র সন্তান আলিম। ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ২০০৩ সালে প্রথম লুবায়না নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন হাবিব। বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তাঁর।

মিলা-সানজারি

গায়িকা মিলার সঙ্গে বৈমানিক পারভেজ সানজারির প্রেমের সম্পর্ক ১০ বছরের। কিন্তু ১০ বছরের প্রেমের সেই বিয়ে টিকেছিল মাত্র ১৩ দিন। বিয়ের ১৩ দিনের মাথায় মতের অমিলের কারণে তাঁরা দুজন আলাদা থাকা শুরু করেন। মিলার মতে, ১০ বছর সম্পর্কের পর আমরা বিয়ে করি। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জানতে পারি, তার আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে। বুঝতে পারি, সে আমাকে ঠকাচ্ছে। যে লোক এত দীর্ঘ সম্পর্কের পরও আমার সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে, তার সঙ্গে আমি থাকতে পারব না। ২০১৭ সালের ১২ মে পারিবারিকভাবে প্রেমিক পারভেজ সানজারিকে বিয়ে করেন পপ গায়িকা মিলা। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ হয় তাঁদের।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি

ads