প্রাথমিকে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন সচিব


গণশিক্ষা সচিব

গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দাবি না মানলে আসন্ন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। দফায় দফায় বৈঠক করছেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক কিরেছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সচিবের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে কথা হয়।

গণশিক্ষা সচিবের সাথে বৈঠক শেষে সহকারী শিক্ষক মহাজোটের শিক্ষক নেতা শাহিনূর আল-আমিন বলেন, মাননীয় সচিব মহোদয় ঐক্য পরিষদকে এবং আমাদের মহাজোটকেও ডেকেছিলো। সচিব স্যার বললো আমাদের যে দাবি বা আমাদের যে চাওয়া ছিলে তা ১২তম গ্রেডই ছিলো কিন্তু ১২তম গ্রেড অর্থমন্ত্রণালয় প্রত্যাখান করায় আমরা পুনরায় আলোচনা করে গ্রেড পাঠিয়েছি এবং সেটা নাকি অর্থমন্ত্রণালয়ে এপ্রোভও হয়েছে। সেটা বলেছে ১১, ১২, ১৩তম গ্রেড । ১২তম গ্রেডটা এখন হবেনা। সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি করে ১২তম গ্রেড হবে। প্রধানদের জন্য ১১তম, সহকারি প্রধানের জন্য ১২ আর আমাদের সহকারিদের জন্য ১৩তম গ্রেড করা হয়েছে। আমরা মহাজোটের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়েছি ১৩তম গ্রেড আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। আমরা ১৩তম গ্রেড কখনোই মানবোনা। এবং বাংলাদেশের কোনো সহকারি শিক্ষক ১৩তম গ্রেড মেনে নিবেন না। আমাদের মহজোটের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচি আছে সেটা আমরা চালিয়ে যাবো। আমরা ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছি এর মধ্যে যদি আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হয় আমরা ডিসেম্বরের ২৫ বা ২৬ তারিখ ঢাকায় মহাসমাবেশ করবো। মহাসমাবেশে ঘোষণা দেব জানুয়ারি ৪ তারিখ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট থাকবে। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হয় তত দিন ধর্মঘট চলবে। আর আমরা মহজোটের পক্ষ থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি দেই নাই, পালন করবো না।

তবে সচিব বলেছেন, এখন থেকে আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আর প্রশিক্ষণবিহীন ভিন্ন ভিন্ন গ্রেড থাকবেনা। একই গ্রেড পাবে। আমাদের এর আগে সিইনএড আর বর্তমানে ডিপিএড করার কারণে স্কেল পরিবর্তন হতো। প্রশিক্ষণবিহীন সহকারিদের ছিলো ১৫তম এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ছিলো ১৪তম গ্রেড। এই দুটা গ্রেড বাদ দিয়ে আমাদের জন্য যেটা হচ্ছে তা হলো উভয়েরই ১৩তম গ্রেড হচ্ছে। আর প্রধান শিক্ষকদের ছিলো ১২ এবং ১১। তাদের দুটা গ্রেড পরিবর্তন হয়ে একটা হচ্ছে আর তা হলো ১১তম। সচিব স্যার আরও বলেছেন প্রধান শিক্ষক আর সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে আর কোনো সরাসরি নিয়োগ হবে না। শতভাগই হবে সহকারি শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে। গ্রেডের ব্যপারে আদালতের একটা রায় আছে যে প্রধান শিক্ষকদের ১০তম গ্রেডের ব্যাপারে। এব্যাপারে সচিব স্যার বলেছেন, রায় আছে, রায়ের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আপীল করা হবে। তারপর রিভিও হবে, তারপরও যদি প্রধান শিক্ষকদের পক্ষে রায় আসে তাহলে আপনাদের সহকারি শিক্ষকদেরও একটা সুযোগ আসবে গ্রেড উন্নয়নের।

এসএম/আওয়াজবিডি