আর্থিক খাতের অনিয়ম নিয়ে হাইকোর্টের অসন্তোষ


হাইকোর্ট

এবার আর্থিক খাতের অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে শুনানিতে আদালত এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আপিল বিভাগ আদেশে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে পারবে, তবে তাদের পুনরায় ঋণ দেয়া যাবে না।

তবে এ আদেশে খেলাপি ঋণ আদায় পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। মোট ঋণের দুই শতাংশ এককালীন জমা দিয়ে একজন ঋণখেলাপী ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবেন, গত ১৬ মে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একে ‘দুধ কলা দিলে সাপ’ পোষার মতো মন্তব্য করে প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করেছিলে হাইকোর্ট।

এআদেশের বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রণালয় আপিল করলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে যে খেলাপিরা বিশেষ সুবিধা পাবেন তাদের আর ঋণ দেয়া যাবেনা। এদিন ব্যাসিক ব্যাংক, ফার্মাস ব্যাংকের অনিময়ের বিষয় তুলে ধরে গোটা ব্যাংকিং সেক্টরের দুরাবস্থার জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোর্শেদ বলেন,

এই মামলাটা ২ মাসের মধ্যে বিচারপতি জেবিএম হাসানের আদালতে শুনানির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ' অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, 'এই সার্কুলারটা এখন কার্যকরী থাকবে। কিন্তু আপিল বিভাগ একটি আদেশ দিয়েছেন সেটি হলো এই ২ শতাংশ সুদের যারা সুবিধা নেবেন তারা আর লোন নিতে পারবেন না। ' খেলাপী ঋণ আদায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ সুবিধা দিলেও অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলছেন, এতে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হবে না।

তবছরের অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ব্যাংকখাতের হিসাবের খাতা থেকে বাদ বা অবলোপন করা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার খেলাপী ঋণ। এরবাইরেও বর্তমানে ব্যাংকখাতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকার বেশি।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি