নিজেদের নির্দোষ দাবি করে যা বললো আড়ং


আড়ং

পণ্যের দাম বেশি রাখায় আড়ংয়ের উত্তরার শোরুমকে জরিমানা ও বন্ধ ঘোষণা করার পরপরই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে নানা অভিযোগ জানিয়ে সরব হয়ে ওঠেন ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ।

কেউ কেউ আড়ংয়ের পোশাক পুড়িয়ে প্রতিবাদ করেছেন, কেউ মানববন্ধন করেছেন, আবার কেউ কেউ আড়ংয়ের নানা অনিয়ম নিয়ে ফেসবুকে সরব হয়েছেন।

শুধু তাই নয়, মানুষের বয়কটের ঘোষণার মুখে মঙ্গলবার (৪ জুন) সকাল থেকে অনেকটা সময় এক রকম ক্রেতাশূন্য ছিল আড়ংয়ের কয়েকটি আউটলেট। এছাড়া তাদের ফেসবুক পেজের লাইকও দ্রুত কমতে থাকে।

এমন অবস্থায় নিজেদের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে আড়ং নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আড়ং তার ঐতিহ্য ও ব্যবসায়ীক সততা তুলে ধরার চেষ্টা করে। তবে স্ট্যাটাসের নিচে আড়ংয়ের এ অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানান নেটিজেনরা (ইন্টারনেট ব্যবহারকারী)।

পাঠকদের জন্য আড়ংয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘গত ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশের লাখো মানুষ আড়ং এর উপরে আস্থা রেখে চলেছেন। তাঁদের দৈনন্দিন জীবন এবং উৎসবের রঙিন মুহূর্তগুলোয় আড়ং-কে সঙ্গী করেছেন, সেজন্য আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবের আগে কখনোই আড়ং পণ্যে দাম বাড়ায় না।

মূল্যতালিকায় কোনো অসঙ্গতি চোখে পড়লে যে কোনো সময় সম্মানিত ক্রেতারা অভিযোগ জানাতে পারেন সংশ্লিষ্ট আউটলেটে। প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ি অতিরিক্ত মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ ক্রেতাকে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা আড়ং-এর সব আউটলেটে অনেকদিন আগে থেকেই রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে কল করুন আড়ং-এর কাস্টমার কেয়ার নম্বরে: ০৯৬৭৮৪৪৪৭৭৭ (প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে রাত ৮টা, শুধুমাত্র ঈদ এবং ঈদের পরের দিন বন্ধ)।

এছাড়াও, নিকটস্থ আড়ং আউটলেটে যোগাযোগ করে অথবা আমাদের ফেইসবুক পেইজের ইনবক্সে আপনার প্রশ্ন জানাতে পারেন। আন্তরিক ধন্যবাদ আড়ং এবং এর শিল্পী-কারিগরদের সাথে থাকার জন্য যারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন আমাদের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে। ’

আড়ংয়ের ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে স্ট্যাটাসটি দেওয়ার পর বিগত ছয় ঘণ্টায় ১১ হাজারেরও বেশি কমেন্ট পড়েছে। যার অধিকাংশ নেটিজেনই আড়ংয়ের অবস্থানের বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন।

নিচে এমন কিছু মন্তব্য পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

সাদিয়া মীম লিখেছেন, ‘আর কত চুরি চামারি? দেশীয় সংস্কৃতি ট্যাগ দিয়ে এমন ব্র্যান্ডিং করে আর কতদিন? মানুষ কি আয়োডিন স্বল্পতায় ভুগে নাকি নিজেদের চালাক মনে করেন বেশি? আপনাদের কাপড়ের যে পোশাক অগুলো এখন আর মন টানেনা।

সাথে প্রাইজ ট্যাগ তো আছেই। বরং আপনারা ক্ষমা চাইতে পারেন, আর এমনটা হবেনা বলে নিশ্চিন্ত করতে পারেন। দেশ আর দেশের মানুষের প্রতি একটুও দায় নাই? নাকি ব্যাবসা টাই সব? আপনাদের শাস্তি দেখে দেশের এইসব দেশীয় সংস্কৃতি ট্যাগওয়ালারা জানুক চোরের দশদিন, গৃহস্থের একদিন!’

আলী আজম রোকন লিখেছেন, ‘বাটপারি ছাড়েন, আপনারা হলেন ভদ্রবেশী ডাকাত। ভুল না হয় হইছে কিন্তু যা মাসল পাওয়ার দেখাইলেন… নিজের রাগ মোচন করতে গিয়ে সৎ অফিসারকে বদলী করালেন। কি ভাবছেন মানুষ এখনো বলদ আছে?? কিছু বুঝে না??? ধান্দাবাজী ছাড়েন, নাহলে ডান্ডা নিয়ে কোনদিন পাবলিক নেমে পড়বে তার গ্যারান্টি নাই। ’

মোহাম্মদ ওয়ালিউর রহমান লিখেছেন, ‘আপনাদের ক্ষমতা না দেখালে পারতেন! সরকারি কর্মকর্তাকে বদলি করা পর্যন্ত আপনাদের পাশেই ছিলাম। যেহেতু আপনাদের এত ক্ষমতা, আশা করি আপনাদের কোন ভোক্তার প্রয়োজন হবে না। আপনারা রাস্তাঘাটে চুরি-চামারি আর ছিনতাই করে ইনকাম আরো বাড়াতে পারবেন! সেই কাজে শুভকামনা রইল!’

এর আগে সোমবার রাজধানীর উত্তরায় আড়ং শোরুমকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি একদিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

মূলত ৭০০ টাকার পাঞ্জাবি ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করায় এ জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল। অভিযান পরিচালনার পরপর সোমবারই সন্ধ্যায় তাকে খুলনা জোনে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ভোক্তা অধিদপ্তর সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক পদ থেকে মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলি করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, খুলনা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়। এদিন আগামী ১৩ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।