একই বাড়ির ঠিকানায় ত্রাণ তালিকায় ২০২ নাম


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

ত্রাণ তালিকা তৈরিতে ব্যাপক গরমিলের তথ্য পাওয়া গেছে। একই বাড়ির ঠিকানায় একাধিক নাম লিপিবদ্ধ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতি পরিবারে একজন করে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও দেখা যায় একই পরিবারের একাধিক নাম।

ওএমএস ও মানবিক সহায়তার পারিবারিক কার্ডপ্রাপ্তদের তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও অসচ্ছলদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ থাকলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তালিকায় অসচ্ছলদের পরিবর্তে বিত্তবান, ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালাদের নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেশি। এ চিত্র দেখা গেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ নম্বর সেকশনের ব্লক ‘প’ বাসা ৫৩৬, তালিকায় এই বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করে ক্রমিক নম্বর ৩২ থেকে ২৩৪ পর্যন্ত নামের বিপরীতে এই একই ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

বাড়িটিতে ২০২টি পরিবার বসবাস করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির মালিক শামসুল হক খান। একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তালিকায় শামসুল হক খান, তাঁর স্ত্রী লতিফা বেগম, পুত্র আসাদ খান ও কন্যা নিলা খানমের নামও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই তালিকাভুক্তরা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার দুই হাজার ৫০০ টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সহায়তা পাবেন। যা কিনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পারিবারিক মানবিক সহায়তা কার্ড হিসেবে পরিচিত।

দোতলা ওই বাড়ির মালিক শামসুল হক খান জানান, ৫৩৬ নম্বর বাড়িটি আমার। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। আমার ছেলে আসাদ খান দেশের বাইরে থেকে এসে এখন বেকার। বাড়িতে চারটি পরিবার ভাড়া থাকে। আমার বাড়ির ঠিকানায় ২০২ জনের নাম কী করে এলো এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ পর্যন্ত আমি শুধু কাউন্সিলরের দেওয়া ত্রাণ পেয়েছি। অন্য কোনো ধরণের ত্রাণ পাইনি।

একই সড়কের ৫২৮ নম্বর বাড়ির মালিক এমারত হোসেন। একতলা একটি টিনশেড বাড়ি। জমা করা তালিকার ক্রমিক নম্বর ১ থেকে ২৫ পর্যন্ত নামের পাশে ওই বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। দেখানো হয়, ওই বাড়িতে বসবাস করে ২৫টি পরিবার।

বাড়ির মালিক এমারত হোসেন বলেন, আমার বাড়িতে কোনো ভাড়াটিয়া নেই। এখানে আমি এবং আমার মা বসবাস করি। তালিকায় আমার নাম রয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু আমার বাড়ির ঠিকানায় আরো ২৫টি পরিবারের নাম কিভাবে এলো, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

এই দুটি বাড়ির ঠিকানায় একাধিক লোকের নাম অন্তর্ভুক্ত দেখানো হলেও বাড়ি দুটির সামনের বস্তির লোকেরা বলেন, কাউন্সিলরের লোকেরা এসে তাদের কাছ থেকে একাধিকবার জাতীয় পরিচয়পত্র নিলেও ত্রাণের তালিকায় তাদের নাম পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তাঁরা কর্মহীন জীবনযাপন করছেন, ঘরে খাবার নেই। বারবার কাউন্সিলর ও কাউন্সিলরের প্রতিনিধির কাছে গিয়েও ত্রাণের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি তারা। ফলে ত্রাণও মেলেনি।

ত্রাণের তালিকায় অসচ্ছল বস্তিবাসীরা অন্তর্ভুক্ত না হলেও সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা পরা, এমন দুই হাজার ২০০ জনের নামের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তালিকার সিংহভাগই বিত্তবান, বাড়িওয়ালা ও ব্যবসায়ীদের নাম।

একই বাড়ির ঠিকানায় ২০২ জনের নাম এবং আরেকটি বাড়ির ঠিকানায় ২৫ জনের নাম কিভাবে তালিকাভুক্ত হলো, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এমনটা হওয়ার কথা না। ওই একই হোল্ডিংয়ে কোনো বস্তি আছে কি না, বা কেন এটা হলো, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখা হবে। এ ছাড়া বাড়ির মালিক বা বিত্তবানরা কিভাবে তালিকাভুক্ত হলো তা-ও আমরা তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এসএম/আওয়াজবিডি

ads