করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বেরোবি ও ওয়েস্টার্ন সিডনী ইউনিভার্সিটির যৌথ সমীক্ষা


করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বেরোবি ও ওয়েস্টার্ন সিডনী ইউনিভার্সিটির যৌথ সমীক্ষা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং ওয়েস্টার্ন সিডনী ইউনিভার্সিটির এক যৌথ সমীক্ষায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এ তথ্য বলা হয়েছে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত হাত ধোয়া, হোম কোয়ারেন্টাইন ও চলমান লকডাউন (সরকারি নির্দেশনা) এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বুধবার (১ এপ্রিল) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুর-এর ঢাকাস্থ শ্যামলী লিঁয়াজো অফিসে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন সমীক্ষাটির চিফ ইনভেস্টিগেটর এবং বেরোবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও।

মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী ইনভেস্টিগেটর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগরিকালচার এন্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর আবির, সহযোগী গবেষক জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের প্রভাষক ত্বহা হুসাইন সহ অন্যান্যরা।

এসময় চিফ ইনভেস্টিগেটর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, সমগ্র বিশ্ব আজ নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিপর্যস্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এ গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ এর জ্ঞান এবং উপলব্ধি পর্যবেক্ষণ করা।

তিনি আরো বলেন, পরিসংখানের যথার্থতা বিষয়কে মাথায় রেখে প্রাথমিকভাবে এ সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ৩৮৫ জনে সীমাবদ্ধ রাখা হয় যার মধ্যে অসম্পূর্ণ প্রতিক্রিয়াগুলি অপসারণের পরে ৩২২ টি উত্তরমালা গ্রহণ করা হয়। ৩২২ জন উত্তরদাতাদের মধ্যে ৫০.৬% ছিলেন পুরুষ। ৫৯.৩% অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সের মধ্যে এবং ৪৭.২% অংশগ্রহণকারী ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। উত্তরদাতাদের ৮৮.২% মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। অংশগ্রহণকারীদের ৫৮.৪% এর ধর্ম সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল এবং ৫১.২% অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন যে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস র্দুযোগ সময়ে তাদের শক্তি এবং আত্নবশ্বাস দেয়।

বেশির ভাগ উত্তরদাতারা (৯৯.৩%) বলেছেন যে তারা করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সচেতন। গবেষণা অংশগ্রহণকারী (৪১.৯%) (কোভিড-১৯) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছেন ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক মিডিয়াতে পোস্ট এবং ভিডিও থেকে, ২৮.৬% সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলি থেকে। অন্যদিকে WHO Ges CDC (Centre for Disease Control) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটগুলি থেকে ২১.৭% মানুষ (কোভিড-১৯) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করছেনে।

প্রায় ৯৪.৭% অংশগ্রহণকারী মনে করেন যে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব বিপজ্জনক। প্রায় অর্ধেক (৫৩.৯%) মনে করেন যে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষগুলি করোনভাইরাস রোগ (কোভিড -১৯) প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে যথেষ্ট কাজ করে যাচ্ছে এবং ৪১% উত্তরদাতা বলেছেন যে তারা করোনাভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে স্পষ্ট উত্তর পেয়েছেন। ৮৫.১% উত্তরদাতা মনে করেন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ন্ত্রণে হাত ধোয়া জরুরী।
এছাড়াও, ৬০.৬% অংশগ্রহণকারী বলেছেন করোনাভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) চিকিৎসার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ ও ভ্যাকসিন নেই। তবে বেশিরভাগ উত্তরদাতারা (৪৮.৮%) বিশ্বাস করেন যে তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবেশে কভিড -১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

কোভিড -১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার প্রতিউত্তরে অংশগ্রহণকারীদের ৩৫.১% বলেন যে তাদের সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি কম, ৩৯.৮% বলেছেন তারা মাত্মকভাবে সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম এবং উত্তরদাতাদের ৪৬% বলেছেন যে তাদের এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মারা যাওয়ার ঝুঁকি খুব কম। তবে তাদের বেশিরভাগ (৬৯.৯%) কোভিড-১৯-এর কারণে চিন্তিত বলে মন্তব্য করছেনে। কোভিড-১৯ এর কারণে গবেষণার সময় উত্তরদাতাদের বেশির ভাগ (৫৭.৫%) স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলে জানিয়েছেন।

কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব বন্ধ করার জন্য হোম কোয়ারেন্টাইন যে একটি ভাল সিদ্ধান্ত সেটি সম্পর্কে ৯৫.৩ শতাংশ মানুষ ইতিবাচক মত প্রকাশ করেন। ৭৯.৫% উত্তরদাতারা মনে করেন যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক কোয়ারেন্টাইন (পৃথকীকরণ) এবং আইসোলেশন (বিচ্ছিন্নতা) কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য যথেষ্ট কার্যকর হবে। তবে ৭১.৪% অংশগ্রহণকারী মনে করেন যদি কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব ঘটে, এটি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। উত্তরদাতাদের ৯৩.৮% মনে করেন যে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব বন্ধ করতে সরকারকে বিদ্যমান সারা দেশে লকডাউন (সকল কর্মকান্ড স্তিমিত) কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া উচিত।

প্রফেসর কলিমউল্লাহ তার বক্তব্যে আরও বলেন এ গবেষণা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশের জনসাধারণের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান, উপলব্ধি ও জনসচেতনতা রয়েছে। তবে এ ভাইরাস সম্পর্কে জনগণের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে যেখান থেকে মানুষের মানসিক ট্রমা ও স্ট্রেস তৈরি হতে পারে যেটা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসহ স্বাভাবিক জীবনযাপন কে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

এসএ/আওয়াজবিডি

ads