সমুদ্রের আকাশসীমা এখনো ভারত মিয়ানমারের দখলে


সমুদ্রের আকাশসীমা

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পাঁচ বছর হয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে বাংলাদেশ এখনো সমুদ্রসীমার আকাশের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া সমুদ্রসীমার আকাশ এখনো ভারত এবং মিয়ানমারের হাতে। ফলে ওই এয়াররুটে চলাচলকারী আকাশযানের খবর না জানায় ওভার ফ্লাইং চার্জ বা আর্থিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে রুটটির ওপর নজরদারি থাকায় এর পূর্ণসুবিধা ভোগ করছে ভারত ও মিয়ানমার! পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছে- সমুদ্রসীমার আকাশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর সঙ্গে ঢাকার দেনদরবার চলছে। রাষ্ট্রীয় জলসীমা এবং একচেটিয়া অর্থনৈতিক এলাকার আওতাধীন আকাশসীমাকে ঢাকার ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওনে অন্তর্ভূক্তকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানার স্থানাংক অনুসারে সংশোধিত প্রস্তাব আইকাওতে পাঠানো হয়েছে বছর খানেক আগে।

এরপর থেকে দফায় দফায় আলোচনা হচ্ছে। সর্বশেষ এ নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে বুধ ও বৃহস্পতিবার দু’দিনব্যাপী একটি বৈঠক হয়েছে।

বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড-এর মধ্যকার চতুর্দেশীয় গ্রুপের সমন্বয় বৈঠকের আওতায় এয়ার স্পেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সেখানে এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় চলাচলকারী আকাশযানের নিরাপত্তা, এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস, সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে যে বিষয়টি ওঠে আসে তা হল- আনক্লজ এবং শিকাগো কনভেনশন অনুযায়ী বাংলাদেশকে অধিকারে পাওয়া রাষ্ট্রীয় জলসীমা এবং এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন বা একচেটিয়া অর্থনৈতিক এলাকার আকাশসীমা বুঝে পাওয়া জরুরি।

সূত্র মতে, বাংলাদেশের রাডারসহ এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) সিস্টেমের সক্ষমতা বাড়ানোতেও জোর দেয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন রাডার স্থাপনসহ অটোমেটেড এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। সমুদ্রসীমার আকাশে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়ার জন্য ঢাকার প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকার করছে সরকারের সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, ঢাকায় থাকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রাডার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এবং চট্টগ্রামে থাকা রাডারটি ২৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নেভিগেশন করতে পারে। সমুদ্রের আগের সীমাতে নজরদারিতেই যেখানে হিমশিম খাওয়ার দশা সেখানে নতুন করে অধিকারে আসা এলাকাগুলো নজরদারির জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন রাডার স্থাপন করতে হবে। পুরনো রাডারগুলোর নেভিগেশন সক্ষমতা দিনে দিনে কমছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, প্রায় সময়ই এতে ত্রুটি দেখা দেয়। কখনও কখনও বিকল হয়ে পড়ে।

কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্রসীমার আকাশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ওভার ফ্লাইং চার্জ বাবত বাংলাদেশের অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করা সম্ভব। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলা আন্তর্জাতিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে মামলার রায়ে বাংলাদেশ ৭০ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার ওপর কর্তৃত্ব অর্জন করে। ভারতের সঙ্গে মামলার রায়ে সাগরে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। সূত্র: মানবজমিন

ads