নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম নিচ্ছেন!


প্রিয়া সাহা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্ভট নালিশকারী বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বরখাস্ত হওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা দেশটিতে অ্যাসাইলামের কথা ভাবছেন।

সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বর্তমানে কানাডায় অবস্থানকারী বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। তাদের মধ্যে ঠেলিফোনে আলাপ হয় বলে জানা গেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার ঘনিষ্ঠজনেরা টেলিফোন-আলাপের উদ্ধৃতি দিয়ে এই প্রতিবেদককে আরও জানিয়েছেন, ‘প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্র অথবা কানাডায় বসতি গড়তে চান। '

এ ক্ষেত্রে তার কর্মজীবী স্বামীর প্রসঙ্গ উঠেছিল। প্রিয়া বলেছেন তাকে কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। সবার দৃষ্টি রয়েছে তার প্রতি।

জানা গেছে, প্রিয়া সাহা বর্তমানে নিউইয়র্কে তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। পছন্দের লোক ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেন না এবং ফোনও রিসিভ করেন না।

এরই মধ্যে প্রিয়া সাহা জাতিসংঘের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তিনি কী নিয়ে কথা বলেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ঢাকা থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একজন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন পেয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন তাকে আশ্বস্ত করেছেন, প্রিয়া সাহা ঢাকায় ফিরলে তাকে গ্রেফতার বা নির্যাতনের কোনো পদক্ষেপ সরকার নিচ্ছে না।

প্রিয়া সাহা ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নানা অভিযোগ করেন। তিনি প্রেসিডেন্টকে বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।

প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নিখোঁজ (ডিজঅ্যাপিয়ার্ড) হয়েছেন। তারা যাতে দেশে থাকতে পারেন, সেজন্য ট্রাম্প যেন সহায়তা করেন। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মহলে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কঠোর ভাষায় তার সমালোচনা করে। তবে পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা শোনার আগে তড়িঘড়ি কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার সঙ্গে তার টেলি-আলাপের বিষয়ে বলেন, ‘তিনি জানতে চেয়েছিলেন আমরা তাকে (প্রিয়া সাহা) গ্রেফতার কিংবা তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করছি কিনা? আমি বলেছি, সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করবে বলে আমার মনে হয় না। ’ শুরুতে প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’ বলেছিলেন ওবায়দুল কাদের। প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে তাকে আটকের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এরপর বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে যতগুলো মামলার আবেদন হয়েছিল, আদালত তা খারিজ করে দেয়। ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী মোমেন বলেন, ‘এই কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন প্রিয়া সাহা এখন শঙ্কিত।

আমি তাকে বলেছি, (দেশে ফেরার পর) তিনি সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাইতে পারেন। ’ ‘বাংলাদেশে অনেক বিষয়ে অনেকেই কথা বলেন, আমরা তাদের গ্রেফতার করি না’, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাকে বলেছেন মোমেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। বরং বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। এদিকে প্রিয়া সাহার নিন্দায় হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসীরা।

নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনেও প্রিয়া সাহার মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশি আমেরিকান প্রগ্রেসিভ ফোরাম তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত সভায় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন ক্যাবি সংগঠনের নেতা ডা. আজিজুল হক ও ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। ওজোন পার্কে মোতাসসিম বিল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন আ ন ম লিটন।