আওয়াজবিডি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০১৯

ওসি মোয়াজ্জেমের গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে অবশেষে পুলিশের লুকোচুরির অবসান

গ্রেফতারি

অবশেষে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পুলিশের লুকোচুরির অবসান হলো। গতকাল রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রথম আলোকে ফোন করে জানালেন, তিনি পরোয়ানাটি পেয়েছেন। এর আগে গতকাল রাত ৭টা ৪০ থেকে ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তিন দফায় তিনি ‘পাইনি, খুঁজতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল গত ২৭ মে। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার বাদী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নুসরাতকে কবরে রেখে ওসি মোয়াজ্জেমকে ঈদ আনন্দ করার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আদালত নিয়মানুযায়ী পরোয়ানা পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো, ফেনীর পুলিশ আসলে পরোয়ানাটা পেতে চায় কি না। না চাইলে কেন চাইছে না, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

সাইয়েদুল বলেন, পরোয়ানা হাতে করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে তিনি নিজেই যেতেন এবং এত দিনে মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার হয়ে যেতেন।

মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া। গত ২৭ মার্চ নুসরাত মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে থানায় যান।

সে সময় তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তাঁর ভিডিও ধারণ করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর ব্যাপকভাবে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।

২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ওই দিনই আদালত মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই।

পুলিশ সুপার গতকাল রাতে প্রথমে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আদালত থেকে জারি হওয়া পরোয়ানা প্রথমে ফেনী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডেসপাচ শাখায় আসে। সেখান থেকে আসে তাঁর টেবিলে। তিনি পরোয়ানা দেখে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে থাকেন।

এতে সর্বোচ্চ এক মিনিট সময় লাগে। কিন্তু তিনি নিশ্চিত, গ্রেফতারি পরোয়ানাটি ফেনীতে পৌঁছায়নি। এ কথার আধঘণ্টা পর রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি বলেন, সম্ভবত পরোয়ানাটি পৌঁছেছে। ডেসপাচ শাখার লোকজন বাইরে আছেন। ফিরলে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন। আর ৯টা ৪০ মিনিটে বলেন, পরোয়ানাটি পেয়েছেন।

সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের পেশকার শামীম আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, পরোয়ানাটি ফেনী পুলিশ সুপারের কার্যালয় গ্রহণ করেছে। ডাক বিভাগের গ্যারান্টিযুক্ত দ্রুত ডাক সার্ভিসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি পাঠানো হয় ২৮ মে। সেটি ৩০ মে ফেনী পুলিশ সুপারের কার্যালয় গ্রহণ করে। তাঁদের কাছে থাকা কাগজপত্রে ফেনীর পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ফেনী প্রধান ডাকঘরের সিল ও তারিখ রয়েছে। পরোয়ানার রশিদ নম্বর ৫৪৬।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। শুরু থেকেই মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। তাঁকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আছে ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বিরুদ্ধে।

Loading...
  • আওয়াজ এক্সক্লুসিভ এর আরও খবর