আওয়াজবিডি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার ২৯ মে ২০১৯

নুসরাতের স্বজনদের ক্ষোভ

চার্জশিটে ওসি মোয়াজ্জেমের নাম নেই

ওসি মোয়াজ্জেম

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে দাখিলকৃত চার্জশিটে ওসি মোয়াজ্জেমের নাম নেই। চার্জশিটে ওসির নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত নুসরাতের স্বজনরা। বুধবার (২৯ মে) দুপুরে ফেনীর আদালতে নুসরাত হত্যার চার্জশিট দাখিলের পরই এ ক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলম জানান, আজ দুপুরে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের সোনাগাজী আমলী আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে তারা এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এরপরই নুসরাতের স্বজনরা আইনজীবীর মাধ্যমে জানতে পারেন, ওসি মোয়াজ্জেমের নাম বাদ দেয়া হয়েছে দাখিলকৃত চার্জশিট থেকে। এরপরই নুসরাতের স্বজনরা আদালত প্রাঙ্গনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতহানির মামলা তুলে না নেয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে এ মামলায় হুকুমদাতা হিসেবে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর ও মাদ্রাসার প্রভাষকও রয়েছে আসামির তালিকায়।

এছাড়া এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। আর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানোর অভিযোগে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। কিন্তু তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম থেকে হত্যার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালান। কিন্তু তাকে আসামি করা হয়নি। অভিযোগপত্রের শুনানির দিন আইনজীবীরা পিবিআইর কাছে জানতে চাইবেন কেন তাকে আসামি করা হয়নি। প্রয়োজনে মামলার বাদী নুসরাতের ভাই নোমানের সঙ্গে আলাপ করে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি জানানো হবে। কাল বৃহস্পতিবার (৩০ মে) অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হবে বলে তিনি জানান।

আইনজীবী শাহাজান বলেন, ধারা অনুযায়ী মামলাটির বিচার কাজ চলবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। সেক্ষেত্রে আমলী আদালত থেকে মামলাটি ওই ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। এরপর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের ওপর শুনানি হবে।

পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকাবাল জানান, পিবিআই মামলা তদন্তের দায়িত্ব নেয়ার ৫০ দিনের মধ্যে ৩৩ কার্যদিবসে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করেছে।

অভিযোগপত্রে আগুন দেয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ৫ জনসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ওই মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন ও সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম ওই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকাবাল আরো বলেন, অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কার্যবিধির ১৬১ ধারায় ৬৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আর ৭ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিমূলক স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রের সারমর্ম বিচারকের কাছে তুলে ধরেন। হত্যার পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, হত্যার সময়ের ঘটনার ডিজিটাল স্কেচও আদালতে তুলে ধরেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

ইকাবাল বলেন, আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, হত্যার পরিকল্পনায় অংশ গ্রহণ ও হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৪ (১) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পিবিআই অভিযোগপত্রে ১৬ আসামির সবার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, মামলার পর থেকে অনেক ধরনের হুমকি পেয়েছি। তবে আমরা এটাকে আমলে নিইনি। যেখানে মেয়েকে হারিয়েছি, সেখানে নিজেরা বেঁচে থেকে কী করব? যেখানে নুসরাত হত্যার বিচারের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়েছেন, সেখানে আমাদের মেরে ফেললেও কোনো সমস্যা নেই। মামলার অভিযোগপত্রে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করায় আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। তবে যে ওসি এতো কিছু করে গেলো। চার্জশিটে তার নাম না দেখে বিস্মিত হলাম। আমরা আদালতের কাছে সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

Loading...
  • আওয়াজ এক্সক্লুসিভ এর আরও খবর