মায়ের মাথা কেটে প্রতিবেশীর বাড়িতে রাখল মেয়ে!


মেয়ে!

মা’- এই একটি ছোট্ট শব্দে কি এক রহস্য আছে যেন! পৃথিবীর সকল শান্তি, তৃপ্তি, বিশ্বাস, আস্থা আর নির্ভরতার আধার হলেন মা। মায়ের ঋণ পরিশোধ করবার ক্ষমতা কারও নেই, হবেও না কোনোদিন।

পৃথিবীর প্রতিটি মা কী দীর্ঘ সময় গর্ভে ধারণ করে, অসহ্য প্রসব বেদনা সহ্য করে পৃথিবীর আলোতে আনেন তার সন্তানকে। আর সে যদি হয় কন্যা সন্তান সেই মা-সন্তানের সম্পর্কে তৈরি হয় অন্যরকম অদৃশ্য এক বন্ধন। কিন্তু সেই কন্যই তার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

নির্মমতার শেষ এখানেই নয়, হত্যার পর মায়ের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন ওই মেয়ে। তারপর বিচ্ছিন্ন মাথাটি প্রতিবেশীর বাড়ির পাশে ফেলে রাখেন। মর্মান্তিক একটি ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ায়।

ফ্রান্সভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পুলিশ গত শনিবার সিডনির বাড়ির পাশ থেকে মাথা এবং বাড়ির ভেতর থেকে বাকি মৃত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। যেসব পুলিশ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তারা বলছে, এর চেয়ে ভয়ঙ্কর দৃশ্য তারা তাদের জীবনে দেখেনি।

অস্ট্রেলিয়ান দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফ বলছে, নির্মমভাবে হত্যার শিকার ওই মায়ের বয়স ৫৭ এবং মেয়েটির বয়স ২৫ বছর। মাকে হত্যার পর বিচ্ছিন্ন মাথা পাশের বাড়ির সামনে বাগানে ফেলে দেয়ার পর সেখানে বসে ছিল মেয়েটি। পুলিশ এসে বাগানের পাশ থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

সংবাদমাধ্যম এবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত অভিযূক্ত ওই মেয়েটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আজ রোববার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তবে আদালতের কাছে মেডিকেল সুবিধা চেয়ে আর্জি জানিয়েছেন। মা-মেয়ে কারোরই নাম প্রকাশ করেনি কোনো সংবাদমাধ্যম।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আদালতের কাছে এমন আর্জি জানানোর পর অভিযূক্ত ওই মেয়েকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। তবে মেয়েটি জামিনের আবেদন করেনি বলে জানিয়েছেন এবিসি।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, যখন এই ঘটনা ঘটে তখন সেখানে হত্যার শিকার ওই নারীর স্বজন চার বয়সী একটি শিশু উপস্থিত ছিল। ঘটনা দেখার পর সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখন সে তার পরিবারের সঙ্গে আছে।

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিদর্শক ব্রেট ম্যাকফেডেন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের যেসব কর্মকর্তা বিচ্ছিন্ন ওই মরদেহ উদ্ধার করেছে তারাও ট্রমার মধ্যে পড়ে গেছেন। তাদেরকেও নানাভাবে এই মানসিক চাপ উতরাতে সহায়তা করা হচ্ছে।

পুলিশের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘যদিও সব ধরনের পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ার মতো প্রশিক্ষণ দেয়া হয় পুলিশ সদস্যদের কিন্তু এমন ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনা দেখে একজন মানুষ ভেঙে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে এমন একটা নৃশংস ঘটনার দৃশ অবলোকন করাও তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য।

রেদওয়ানুল/আওয়াজবিডি