বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তের প্রতিশ্রুতি ইমরানের, নিহত বেড়ে ৯৭


ইমরান

পাকিস্তানের করাচিতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিমানটিতে থাকা মোট ৯৯ আরোহী ছিল। অন্যদের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান করাচিতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে যথাযথভাবে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৩ মে) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের ডন অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

এ দুর্ঘটনার জন্য শোকপ্রকাশ করে টুইট করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। টুইটে তিনি বলেন, এ বিমান দুর্ঘটনার জন্য আমি খুবই দুঃখ পেয়েছি। মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের সিইও (CEO) আরশাদ মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তিনি ইতিমধ্যেই করাচি পৌঁছেছেন ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ঘটনাস্থলেই রয়েছেন। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল তার কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডনের সূত্র মতে, পাকিস্তানের করাচিতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিমানটিতে থাকা মোট ৯৯ আরোহী ছিল। অন্যদের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুক্রবার (২২ মে) পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার (পিআইএ) পিকে৮৩০৩ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়। এয়ারবাসটি ৯১ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে লাহোর থেকে করাচি যাচ্ছিল। জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই অবতরণের কথা ছিল এটির।

ডনের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বিমানটি দুই দফায় রানওয়েতে নামার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর বিমানবন্দরের পাশের আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। এতে ওই এলাকার বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন স্থানীয় অন্তত ৩০ জন বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও ওই অভিযানে অংশ নেয়। হতাহতদের উদ্ধার করে আশপাশের হাসপাতালে নেয়া হয়। প্রাদেশিক সরকার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শাকিল আহমেদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কয়েক কিলোমিটার দূরে আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে উড়োজাহাজটি। আছড়ে পড়ার আগে একটি মোবাইল টাওয়ারকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনাস্থলের বেশ কয়েকটি বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিন্ধু প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম সমন্বয়ক মিরান ইউসুফ দুই যাত্রীর বেঁচে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তাদের একজন ব্যাংক অব পাঞ্জাবের প্রেসিডেন্ট জাফর মাসুদ। অন্যজনের নাম জুবায়ের। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

মিরান জানান, এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।

পিআইএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এয়ার মার্শাল আরশাদ মালিক বলেন, উড়োজাহাজের পাইলট কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করে কারিগরি ত্রুটির কথা বলেছিলেন। দুটি রানওয়ে প্রস্তুত ছিল উড়োজাহাজটির অবতরণের জন্য।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশের মতো পাকিস্তানও উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত ছিল। তবে কয়েক দিন আগে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০১০ সালে ইসলামাবাদে। ওই দুর্ঘটনায় বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ারব্লুর একটি যাত্রবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৫২ আরোহীর সবাই নিহত হন। এটাই এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা। এ ছাড়া ২০১২ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১২৭ আরোহীর সবাই নিহত হন। আর ২০১৬ সালে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল থেকে ইসলামাবাদ যাওয়ার পথে যাত্রীবাহী বিমানে আগুন লাগলে ৪৭ জন নিহত হন।

সূত্র: ডন

এসএম/আওয়াজবিডি

ads